কার্তুজ - ৫ম রাউন্ড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কার্তুজ - ৫ম রাউন্ড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১ জুন, ২০১৩

সরকার আমিন


তুমি কি বাড়িতে আছো?

খুবই বৃষ্টি হচ্ছে আমার মনে!
মনে হচ্ছ কালো আকাশ কাত হয়ে পড়ে গেছে। বৃষ্টি জমে যাচ্ছে মনে।

আমি জমাটবদ্ধ প্রেম নিয়ে ছুটে আসছি, হেই তুমি কি বাড়িতে আছো?

কলিংবেল বাজাতে বাজাতে ক্লান্তিতে আমার ঘুম ধরে যাচ্ছে। তুমি কি বাড়িতে আছো?

তোমার ব্যক্তিগত কুকুর কেবলই শুকে যাচ্ছে আমার ডুবে যাওয়া হৃদয়।

হেই আমি তো বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছি
তুমি কি বাড়িতে আছো? সত্যি সত্যি আছো তো?

পরাগ আজিজ


কিভাবে আলাদা করবে!

আমি এইভেবে সুখী হই যে,
আমার ঘরে এখনো ঢোকে রোদ
বৃষ্টি
হাওয়া...

স্বপ্নের গুঁড়ো গুঁড়ো রঙ দিয়ে সাজানো আকাশে
এখনো ওঠে চাঁদ
জানালায় বসে পাখি শিস দিয়ে যায়
প্রজাপতি উড়ে এসে বসে ড্রইংরুমে

বরং আমি এই ভেবেই সুখী হই
তুমি যেখান থেকে নিঃশ্বাস নিচ্ছো
যে রোদ তোমার শরীরে পড়ে
যে মেঘের জল তোমাকে ছুঁয়ে যায়

সেই হাওয়ায়, রোদে আর জলে আমিও বাঁচি;

কিভাবে আলাদা করবে বল!

২১০৫২০১৩।।

মেঘ অদিতি


স্মৃতিবিন্দু

যা কিছু গভীর তার সবটুকু দিয়েছি তোমাকে
মাছরাঙা নাভিতল নিভৃতের হরিতকি বন
তবু খোঁজো স্মৃতিবিন্দু, সঙ্গোপনে দেরাজে যখন
হৃদয় আগলে রাখি অর্থহীন অপার বিষাদে
নিজেকে সরিয়ে ভাবি এই বেশ লুকোচুরি খেলা
ছেঁড়াখোঁড়া ধারাপাতে থেকে যাবো এমন ভ্রমণে
এতো সে’ই তুমি নও, যাকে আমি অনিরুদ্ধ জানি

চেতনার কোন স্তরে ভালবাসা নিজেকে চেনায়?
উত্তর অজ্ঞাত তাই লক্ষ্যভেদি সে শিকার আমি
তুমি যাকে প্রেম বলো তাকে আমি স্পর্শ বলে জানি..

দঈত আন্‌নাহাল


হাওয়ার সঞ্চয়


মৃত্যুর
মতো একা আছি
মৃত্যুর সাথে বাঁচি
           অত:পর
হাওয়ার সঞ্চয় মেঘ-
               আবার
হাওয়ায়
          উবে
                গ্যালো
                একটা
                জীবন!

মেঘ উড়ে গ্যাছেগো সোনা
                  বৃষ্টি হলোনা!!

                  বৃষ্টি হয়না!!

আমাদের সাথে আর
                   দেখা হয়না তার-
                               তাঁহার;
অত:পর হাওয়ার সঞ্চয়
                       মেঘ-
হাওয়ায়
          উবে
                 যায়
                 একটা
                 জীবন,
       এপার           ওপার!

                যে জীবনে
                বৃষ্টি সয়না


 -১৭০৬১২

অভীক রায়


বিতৃষ্ণা - ১

আমরা বিশ্বাসকরি-
সেটাই শ্রেষ্ঠ সমাজব্যবস্থা যেখানে সবকিছুকে একই এককে বিচার করা যায়।
বেয়াড়া মিডল ক্লাস অবশ্য পপুলেশন সায়েন্স আর গেম থিওরির
ফান্ডামেন্টাল প্রিন্সিপালগুলোকে কাঁচকলা দেখিয়ে এখনো বাদাম খেতে খেতে প্রেম করে,
মুর্খ কায়কোবাদ আগুনে ঝলসে জীবন দেয় কোন এক শাহিনাকে বাঁচাতে গিয়ে।
তবে সে যাক গে- আমাদের স্ট্যান্ডার্ডগুলো কিন্তু ওয়েল ডিফাইনড!
কবিতার বই কাগজের ঠোঙার দামে বিকোবে- এটাই জাস্টিস।
ইমারতের আভিজাত্যের ছায়ায় বস্তির শিশুরা বড় হবে
মাসের খরচের সাথে মধ্যবিত্তের আয়ের টানাপোড়েনে
বিকেলের চা, দখিনা বাতাস আর পারিবারিক আড্ডার আসরগুলো ইতিহাস হবে।
রক্তের দাগের ওপর নতুন টাকার গালিচা পেতে সেটা ঢেকে দেওয়া হবে-
শ্রমিকের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন দেহের রক্ত
খুন হওয়া কিশোরের রক্ত
ধর্ষিতার আঁচলের রক্ত

আমাদের সমাজ ভাল আছে-
এখানে বনলতা সেনের দুপুরের ভাতের দাম জোগানো হয়
সাথে থাকে মেডিকেল অ্যালাওয়েন্স- অ্যাবরশনের খরচটা।

সজল সমুদ্র


ভাবমূর্তির কবিতা

অসংখ্য সুতোর কান্নায় ঢাকা ছিল পোশাকের আড়াল

খেয়ালের পাতা দই খেয়ে নিতে উন্মুখ আমরা
দাঁড়িয়েছি কাঁটা চামচের সারি; লাল-নীল আততায়ী,
প্রাচীন নদীর সমান বেঁকে গেছে বোঝাপড়া
                   আমাদের জ্ঞানের প্রবাহ;
দেয়ালে কানের গল্পে জন্মেছে ফাটল এখন
ক্ষুধার্ত মুখের রেখায় প্রসারিত হতে হতে তারা
খেয়ে নিলো ঘামে-শ্রমে প্রেরণার পুস্প ও মধু

আমরা ভাবের মূর্তি, কী সুন্দর আমাদের অন্ধত্ব
অক্ষুণ্ন ছড়িয়ে দিচ্ছে মৃদু বিহ্বলতার বার্তা, গান;
রাস্তায় দাঁড়াবো ভেবে ঘরভর্তি পোশাকের ভিড়ে
অনন্য, উজ্জ্বল শার্ট খুঁজে নিতে গিয়ে দেখি-
                 কেউ কেউ হ্যাঙারে টানানো...

আখতারুজ্জামান আজাদ



চা-পানের ইতিবৃত্ত

প্রিয় দেশবাসী,
আজ এই টিএসসির খোলা চত্বরে দাঁড়িয়ে ধূমায়মান চায়ের কাপ হাতে নিয়ে,
আপনাদেরকে আমি আমার লাগামহীন চা-পানের ইতিবৃত্ত বর্ণনা করব।

আমার হাতে চা-ভর্তি এই যে কাপটি দেখছেন --
এই কাপটি একটি ইতিহাস, টিএসসির টি স্টলের প্রতিটি কাপই একেকটি ইতিহাস!

খানিক আগে এই কাপে চা খেয়ে গেছে ঘামে-নাওয়া এক রিকশাশ্রমিক,
সদ্য-চুমু-খাওয়া রেসকোর্সফেরত এক উদ্বাহু প্রেমিক।

শ্রমিকের নাকের ঘাম,
প্রেমিকের ঠোঁটের কাম --
লেগে আছে এই চায়ের কাপে।
শ্রমিকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ,
প্রেমিকের ওষ্ঠীভূত লোভ --
গলে আছে এই চায়ের তাপে।

হয়তো এই কাপেই চা খেতে খেতে কোনো খুনি এঁকে গেছে কোনো খুনের নকশা,
কোনো মুনি আবিষ্কার করে গেছে দর্শনের নয়া নয়া ধোঁয়াশা,
প্রেমবঞ্চিত কোনো কবি কারো প্রেমকেলী দেখে ফেলে গেছে দু ফোঁটা চোখের জল,
সদ্য-অঙ্কুরোদগম-ঘটা কোনো প্রেমিকা লাগিয়ে গেছে ঠোঁটের ছল।

প্রেমিক থেকে শ্রমিক,
খুনি থেকে মুনি,
কবিনেতা থেকে অভিনেতা --
প্রত্যেকের মুখস্থ তপ্ত থুতু লেগে আছে এই চায়ের কাপে!

এই ঐতিহাসিক কাপে ঠোঁট ছুঁইয়ে আমি পাই ইতিহাসের ছোঁয়া,
কেতলির নলে আমি দেখি ইতিহাসের দাউদাউ ধোঁয়া।

প্রিয় ধোঁয়া উড়ছে, উড়ছে তো উড়ছেই;
চোখের জল পুড়ছে, পুড়ছে তো পুড়ছেই!

প্রিয় দেশবাসী,
আমি বিশ্বাস করি --
হাজার বছরের হাজার আয়োজন শেষে,
বহু দূর হতে দ্ব্যর্থক হাসি হেসে,
চায়ের চুলোর ধোঁয়ায় ভেসে ভেসে,
রাবীন্দ্রিক প্রেমিকার বেশে
একদিন সাবালিকা এসে দাঁড়াবে টিএসসির এই টি স্টলে!

এবং বলবে --
শত বরষের শতেক স্বপন চায়ের কাপে মাখাও;
স্বপ্ন এবার সত্যি তোমার, চা খাও কবি, চা খাও!

২৪ মে ২০১২

হাসান মসফিক


শব্দফুলের পাতা

সবকিছু, গুলিয়ে যাচ্ছে ...

চাল ডাল তেল নুন, ফালি করা শসার ভেতর লুকানো পেঁয়াজের ভাঁজ;
কিশোরী দুপুর, থোকা থোকা ইলশে মেঘের নিচে
রঙে দাগ টানা ঘুড়ির দীর্ঘ লেজ
নামতার সব সংখ্যা লুডোতে মই পাওয়ার পর
ঠিক সাপের পেটে;
কর্পোরেট হাওয়া শুষে নিচ্ছে
শৈশব ছাতা

তুমি আমি বিকেল; এক সুতীব্র রেখায়... সম্পর্ক... গুলিয়ে যাচ্ছে...

২৭।০৫।১৩

শাকিলা তুবা


আঁকিবুকি

এরপর তুমি আঁকলে একটা গাছ, শুধুই গাছ
গাছের ছায়ায় উদাস দুপুর,
আর আঁকলে বাঁশী বাজানো রাখাল
যার পা ছুঁয়ে বয়ে গেছে শীর্ণ ধারার নদী।

আমি বললাম, গাছটা এমন ন্যাড়া কেন?
সবুজ বাড়াও, আরো পাতা জমে যাক
গাছের মাথায় তুমি এঁকে দিলে আঁকাবাঁকা গ্রাম
আর ময়ুরকণ্ঠী রঙের মমতা।

তোমার রঙ-তুলি, তারপিন তেল আর তুলোয়
আঙ্গুল ভেজালাম আমিও
এবার আমি এঁকে দিলাম গাছের উপর পাখীদের ঘরদোর,
দু’টো পাখীর বসন্ত বাতাসে দোল খাওয়া।

তুমি বললে, উঁহু এখনো হয়নি
তুমি আঁকলে দুটো পাখির ছানা, পাশে কিছু সম্ভাবনাময় ডিম
আমি বললাম, তাহলে একটা সাপও আঁকো ডালে অথবা
মাথার উপর ছানা লোভী চিল, জীবন যেমন হয় আর কি!

তুমি বললে, গাছটাকে এভাবেই পরিপূর্ণ দেখাচ্ছে তাই না!
আমি বললাম, তাহলে এটা একটা সুখী গাছের ছবি, বলো!

খন্দকার নাহিদ হোসেন


যাদুকরের কিচ্ছা

গহনে বৃষ্টির শ্যালো-ইঞ্জিন
গাঁও-গেরাম ডোবে-ডোবে ছেলেটার
বুকের ঘাটলা
মেয়েটা ডুবতে তবু ডরায় না কেন?
অন্ধকারের গুহায় মানুষ নরম
যাদুকরও তাই
তবে কি কিচ্ছার শেষে সে লিখবে
শেষ লাইনের ধসে-
এসো খোঁপা বেঁধে দেই... ঝড় আসছে...!

চন্দ্রবোড়ার ফণার পাড়ে
যে যাদুকর আকাশটা মুছে দেয়
তারই কাছে কেন চাও
পরাণের বাড়ি?
চলো উইনশিল্ডে লিখি
হাতে ডুবিয়েই হাত-
আড়ি আড়ি আড়ি!

জিতে যাবে বলে এসেছিলে
অথচ যাদুকরের বাজি ভালোবাসার উপর
এখনো হাতের তাস নিয়ে ভাবছো-জিতবে?
সখী, সাধনায় অন্ধকারও হারে-জেনে যায়
সেরা ম্যাজিক সবাই পারে না-সেরা বলেই।

আগমনী রাত-মণ্ডপও তৈরি
ফোরকাস্ট গ্রামোফোনে বলছে-
ছেলেটা ভিজবে তার লোকালয় নিয়ে!

জানালা ভিড়িয়ে দাও-এ বুকে ঝড়-বৃষ্টি...।

১৭ই মে, ২০১৩
আউচপাড়া, টঙ্গি-গাজীপুর।

অপরাহ্ণ সুসমিতো


পরাণরে কই যাও ?

যে কোনো নির্মাণে ঝুল বারান্দায় আমি দাঁড়িয়ে থাকি, তোমার সিঁড়ি ভাঙ্গা দেখি

তুমি বদলে যাচ্ছো, দেয়ালের ছবি ফ্রেম জ্যামিতি হচ্ছে।

চির টলটল তোমার হাতের লেখা পাল্টে যাচ্ছে,তুমি যাদুঘরের দিকে হাঁটছো কেন?
চিরুনী খসে যায় তোমার হাত থেকে ডুকরে কেঁদে ওঠে জলের প্রাচীর
গান ভেসে যায় টেবিলে, জমা হয় প্রতিদিন ভোর।

তুমি একা একা কই যাও? কই যাও?
তোমার জামার বোতামে আমার মধ্যমা ছোঁয়, আমি ঘরময় থমথম করি
সুজনেষু গোলাপ তোমাকে হারাচ্ছি হারাচ্ছি

তুমি পারমানবিক সৌন্দর্য লুপ বেঁধে আমাকে শহরের আরক দাও

দাও চাবিকাঠি

তুমি কোথায় যাও মন? কই যাও একাকী?
আমি বিদ্বান নই, হেঁটে হেঁটে তোমার গান তান শব্দ নির্মেদ গুনে গুনে গাছের
সমান হয়ে দাঁড়াই।

তোমার মুখে আলো এসে পড়ে, তুমি একা একা ছবি তোলো তুমি কথা বলো
অন্ধ সেনাপতিটা লালবাতি উপেক্ষা করে দূরে যায়
বাবা ব্যাগ নিয়ে সংসার মা বোনে উদ্যান

কোন মিউজিয়ামের সামনে তুমি বন্ধুতার পতাকা ওড়াও সাদা বয়ানে

ও পরাণ ও পরাণ কই যাও? কই যাও একাকী?