কার্তুজ - ৪র্থ রাউন্ড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কার্তুজ - ৪র্থ রাউন্ড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১ মে, ২০১৩

মেঘ অদিতি


কথাদীমালা ও লেখক

- তুমি তো আঁকিয়ে। এই সময়কে ধরতে পারছ না!
: পারছি না.. আমি পারছি না।

- তুমি তো কবি, সময়ের সাক্ষ্যদানকারী পারছ না এ ধ্বংসযজ্ঞকে শব্দে ধারণ করতে!!
: অপারগ আমি..

- তুমি তো গল্প লেখ, সার সার লাশের কথা না লেখ অন্তত সেই নূপুর পরা পা অথবা সেই মৃত মেয়েটিকে আগলে রাখা পুরুষের মৃত্যুর কথা লিখবে না? নাহয় মরণ থেকে ফিরে আসা তাদের কথা?
: পারব না আমি.. আমাকে ক্ষমা কর..ক্ষমা কর..

- এই বৃষ্টি শুরু হলো। সৃষ্টিশীলের আরাধ্য, প্রেম, সৃষ্টির এই বৃষ্টি। ভিজবে না?
: ভিজব না.. চাই না বৃষ্টি, এমন বৃষ্টিতে সাভারের উদ্ধার কাজ ব্যহত হোক চাই না..

- ঢাকায় এখনও কোকিল ডাকছে শুনেছ? রমনায় ২৪শের বিকেলেও শুনলাম কোকিল ডাকছে। ও বোধহয় সাভার ট্রাজেডির কথা জানে না অথবা বিনোদনের জন্য প্রখর নৃত্য গীতের কোনো মহড়া দিচ্ছে। 
: জানি না আমি। আমাকে কেন জিগ্যেস করছ এসব! আমি নীরবে থাকতে চাই।

- তাই কি? বলছ এই দুর্যোগে তুমি নীরব দর্শক?
: তা কেন? আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করছি, সাহায্যের হাত অত লম্বা নয় আমার তবু তো থেমে থাকিনি।

- সত্যি! কিছু টাকা, খাবার বা ওষুধ পাঠিয়ে তুমি দায়িত্ব সেরে ফেলতে চাইছ বল!
: আর কীই করতে পারি আমি?

তাও বটে.. তুমি তো কবি, বরং কবিতার স্ফুলিঙ্গের কথা ভাব ।
তুমি তো ছবিয়াল বরং সময়কে আঁক।
তুমি তো গল্পকার দারুণ গল্পের সব প্লট পেয়েছ ভেবে মন ভালো কর...

আশরাফ শিশির


বিপ্লবী প্রেম

এ পথ নয়তো নদী ভেসে যাওয়া যাবে না
শিকারীর চোখে আটকে গেছে মুসাফির ইলিশের কান্না
ওগো মৎসকুমারী, ওগো জেলেদের মেয়ে, ওগো পদ্মফুলের আলো
আমিতো শিখেছি শুধু ঘুমের ভেতরে উল্টোপাল্টা ডুবসাঁতার...
সাপের সঙ্গে শুয়ে শুনে পুরনো বেহুলা-কাহিনী
কর্পোরেটের বেঁধে দেওয়া অফ-পিক আওয়ারে ফিসফাস করতে করতে
বরবাদ হয়ে গেছি অস্তিত্বের ঘেরাটোপে...

এ পথ নয়তো আকাশ উড়ে যাওয়া যাবে না
শুধু জেনো আকাশের মত এ পথে ছড়ানো বেদনার নীল
ওগো পাখী, ওগো রুপকথার পরী, ওগো শুকতারা
এখানে মেঘের মত চকমকি পাথর
নিজেরা নিজেদের সাথে ঘষাঘষি করে
জ্বেলেছে একান্ত আগুন
যে কোন জ্বালানো আগুন  আমাদের বিপ্লবের ইতিহাস...

আমার অক্ষমতায়
প্রটোকল ভেঙ্গে তোমার জন্যে আসেনি কোন পালকি
ঘাটে বাঁধা নেই কোন নৌকো
উড়ে যাওয়ারও কোন সুযোগ নেই
এই রুটে কোন বাস নেই, ট্রেন নেই,
অপেক্ষা করার কোন প্লাটফরম নেই,
সারাপৃথিবীতে গত এক হাজার বছর ধরে
অনির্দিষ্টকালের জন্যে ভালবাসার হরতাল...

প্রিয়তমা,
এই পথে তোমার আর আমার
হাতে হাত ধরে হেঁটে যাওয়া ছাড়া
আপাততঃ
আর কোন পথ নেই......

কচি রেজা


জন্মান্তর

এ আমার কী বেঁচে থাকা, চারদিকে এত পাখি
প্রত্যাখানও পারে না ঘুম পাড়াতে
তাই এই অন্যমনস্ক!
একটুও না ঘুমিয়ে বিস্মিত লাশের সামনে
ওই তো ঘোড়াগুলি ফিরে যাচ্ছে
পিছনে মেসোপটেমিয়ার মমি
বুকে কান পেতে কেঁপে উঠছে ক্ষুব্ধ
একটা দুটো
চুম্বনেও পারো না ঘুমাতে!
পরে নিই চলো, জলপাইপাতা
দোলাই খালের জল কতবার পালটালো তারপর
পিঠ দেয়াল ঠেকলে বুঝি আমারও গজাচ্ছে
কবরের খোলা মুখ কী এক মানুষিক রঙ্গে থকথকে
কুন্ডল পাকায় মনে
জন্মান্তর কী সাপ
ভাবছো, মোম দিলে মুছে যাবে হালকা
বাঘের স্প্রে
যে-আমি কখনও রাত্রি হই নি
পাথার পেরিয়ে
ব্লেডে কেটে রেখেছি নিজেকে নিজের ঘুমঘুম-স্তনে

জগলুল হায়দার


বঙ্গে

সাগর জাগুক
আগুন লাগুক
জলে
তুফান আসুক
অসুর ভাসুক
ঢলে।

সব কালিমা ধুয়ে যাক
অহংকারী নুয়ে যাক
মানুষ বাঁচুক
মানুষ নাচুক
রঙ্গে
এই অভাগা বঙ্গে।

রত্নদীপা দে ঘোষ


কেমন আছেন, হাসলো মেয়েটি

নীল সালোয়ার ধারালো সবুজ প্রজাপতির বারান্দায় সিম্লিপাল
মেঘের বেড়া টপকে লক্ষ নটিক্যাল পাখি ধুন সর্পিল রুমালের গতি

মেয়েটি অনন্ত প্রেমপত্র
তাকেই শোনাচ্ছি প্রথম চিলেকোঠা
লবনাক্ত টোল
ফিল্টার উইলস দু’পেগ রিনা ব্রাউন

পাহাড়ের পাকদণ্ডী বেয়ে অথৈ আকাশের সুরাসাকি
জলরাশির চূড়া ব্যস্ত চাঁদ কোহলের চুড়ি

কেমন আছেন গা-ছমছমে... অবেলায়
নক্ষত্রের ফিতে খুলে দিলো সালোয়ার নীলমেয়েটি

প্রবর রিপন


রানা প্লাজার মৃত্যু পার্টি

ধ্বসে যাক ভবন, ধ্বসে যাক প্রেম
দাঁড়িয়ে থাক র‍্যাম্পের মডেল
অনেক উঁচুতে ঊঠে যাক বিজিএম-এ ভবন
টিভি ক্যামেরা ভীড়ে রক্তের মেকাপে
আমি আর জাগবো না
কাফনের দারুণ পোশাক থেকে
জীবন্ত লাশের দিকে বাড়াবো না
বেচে ওঠার জন্য কোন হাত
শুধু দেখবো পাজেরো জিপে ওড়া পতাকা
আমরাতো পড়ে আছি রক্তহীন লাশ
লাশের স্তুপের মাথায় পতাকার সুর্যটা কি আশ্চর্য লাল !!!!!
মা ,গোরস্থানে কাঁদতে নেই
কাদঁতেই যদি হয় আতুঁরঘরে কাঁদো

পরাগ আজিজ


রৌদ্র ভুলে গেছে আলোবতী গান

আকাশ গলে পড়ছে
বেদনার্ত দিন
তোমার নোলক
কাঁচের চুড়ি আর
খসে যাওয়া সড়কের মতো
মৃত পথিকের পায়ে পায়ে
একটা জীবন

নগরের কোলাহল ভেঙচি কাটে;

আমার হয়ে গেছে
মায়াময় পৃথিবীকে পাঠ।

রৌদ্র সেই কবেই
ভুলে গেছে
আলোবতী গান।

নীলকণ্ঠ অরণি


যদি ডাকে ফের সুসময়

যদি ডাকে ফের সুসময়
দেখা হবে কোন এক মাঝরাতে
তোর সাথে এমন অরূপ জোছনায়
বাতাসের ঘুঙুর পরে হবে নাচ
অন্ধকারে তারার জলসায়
যদি ডাকে ফের পুরনো সুর
যাবো নাহয় দূর গন্ধে হারিয়ে
দুগ্ধবতী কুয়াশায় গিলে ফেলা চুম্বনে
মিশে যাবে অশ্রু মৌন আলিঙ্গনে
যদি ডাকে ফের প্রিয়তা
দেখা হবে আমাদের দুজনের
কোন একমাঝরাতে
পৌষে ওম নেব ভাগাভাগি করে।

২৭ ডিসেম্বর '১২

খন্দকার নাহিদ হোসেন


কিতাব

বৈশাখের ওয়াক্তের মতো দিন
ঝড়ে......ঝরে ঝরে শুধু ছুঁই
কালো যাদুর পাতাতেই লেখা
জীবন কৌটায় থাকে নাকি এক সোনামুখী সুঁই!
হঠাৎ থমকে যাই, আয়োজনে খুঁজি
প্রাচীন কিতাব কি জানে-
মানুষ কোথায় থাকে-এ বুকের কোনখানে?

সোয়াদের বাটি ডোবে রেহেলের পাতে। রহমতের সূরায়-হরফে হরফে পবিত্র শব্দের সুর। বোধ গাঢ় হয়। আমরাও গাঢ় হত হতে তসবি দানার মতো জমে হই ভোর। তবু এক জুম্মাবারে জামে মসজিদ বর্ডার দেখিয়ে দিলো! আর তুমিও শৈশব ঈদকার্ডে ভরে কাছে এসে বললে-প্রেম কি? 

এখনো ঝলসে যাই কেঁপে কেঁপে উঠি
মনে ঘাই দিলে কেউ ভীষণ রকম
অথচ পরাস্ত রাত-কাঁচুমাচু সাল
রাজা-রাণী পুড়ে ছাই
আপন মন্ত্রী-কোটাল!

জিগিরের মতো এক আফসোস। বিশ্বস্ত খাদেমের মতো শুধু তাল দেয়-জীবনকে বলে সিন্নি চাই। চায় সে ভীষণ কফের রাতে সোহাগের তালমিছরি! ভাবি জিন সাধনায় যাবো-কিংবা ইসতেখারা কি জানাবে সেই উড়া উড়া নাম? তিনতলা, নামবিহীন এক মানবীকে মনে রাখবার কৈশোর যদি বুঝতে-যদি...! অতঃপর কিতাবেই থাকুক নারীর জন্য লেখা গনগনে উক্তিঃ 

‘যদি ভুলে যাও-যদি যাও
তবে যেন ভেবে নেবো
বৃথা এ পুরুষ জন্ম!’      

১৯শে এপ্রিল, ২০১৩
আউচপাড়া, টঙ্গি-গাজীপুর।

প্রজ্ঞা মৌসুমী


রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট

সে ছিল হলদে বক একদিন, কোন একদিন...
ডাহুকের চেটে রাখা চিহ্নের লালরেখায়-
নিঃশব্দে জল হয়ে যাওয়ার আগে
সেই হলুদের ছিল এক চিরস্থায়ী রোদ।

তখনো জানেনি  হলুদ
জীবনের কাছেই কুয়াশার চোরাবালি,
সন্ধ্যার লেনদেন...

ডাহুকের পৃথিবীতে, একে একে সব হয় কেনাবেচা
তবুও  স্বপ্নের খেরোখাতায় কোত্থেকে এসে পড়ে টুপটাপ হলুদ!  
এখনো!

কিছুটা রোদ হলেও ছুঁয়ে দিও
অন্ধগলির ঠোঁটেরও এই দাবী থাকে।
তারও আছে প্রেমের স্বাদ...চিরন্তন সাধ।
এ ঠোঁট প্রেম ছিল, পণ্য ছিল না।

সিপাহী রেজা


মেঝের বুকে সিলিঙের শ্বাস

ভাঙা ফাটল দিয়ে অজানা আওয়াজ শোনা যায়।
একটা একটা রুহ মুক্তির আওয়াজ...

এখানে ক্রমশ নিভে যাচ্ছে শ্বাস।
ভাঙা পাথরে, বাঁকা রডে, গুঁড়ো শুরকিতে, মেঝের বুকে সিলিঙের শ্বাস।
ভেন্ডিলেটর, কার্নিশ, বীভৎস জানালায় আঁটকে থাকা শ্বাস।

উপরওয়ালার সিন্ডিকেট মিটিং-এ আগেই হিসেব হয়েছিল।
টোটাল কতগুলো মাল লাগবে, কতগুলো মাল থাকবে।
কতগুলো যাবে গোডাউনে, কতগুলো যাবে ঠিক উপরে।

তারই প্রেক্ষিতে...
এখানে বাতিল হয়ে গেছে অক্সিজেনের ট্রানজিট।
আলো আটকা পরে তৈরি হয়েছে কৃত্তিম সংকট।
এখানে গুম করা হচ্ছে শ্বাস, এখানে লুট হচ্ছে শ্বাস!

এখানে সেকেন্ডের ব্যাবধান, এখানে আক্ষেপের গান,
জীবিত কুঠুরিরা যখন একে একে হয়ে যায় রুহের গুদাম।

[ একজন যুবক যে কিনা সাভারের ভবন ধ্বসের মধ্যে আটকে পরে, কয়েক মুহূর্ত পর মারা যাওয়ার পথ আবিস্কার করে ফেলেছেন, আমি তার কথা ভাবছি। নিজেকে বারবার সেই যুবক মনে হচ্ছে। চলে যেতে যেতে যে কবিতাটা লিখে ফেলতে পারলাম সেটা অনেকটা এমনই হবে... ]

২৪ এপ্রিল '১৩