কার্তুজ - ১ম রাউন্ড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কার্তুজ - ১ম রাউন্ড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

সাখাওয়াত টিপু


এত লাশ লইয়া কোথায় যামু আম্মাজান ?

Society as a whole is more and more splitting up into two great hostile camps,
into two great classes directly facing each other - bourgeoisie and proletariat.

-    Karl Marx's Communist Manifesto

এত লাশ লইয়া কোথায় যামু আম্মাজান?

বনানীতে জায়গা নাই সব নাকি বুদ্ধিজীবী
মীরপুর গোরস্তানে গোরাদের লাইসেন্স লাগে
আজিমপুরে দাফন দিমু এমন সামর্থ নাই
লাশগুলা ঠিকানাহীন নালায়েক মানুষের বাচ্চা !

এত লাশ লইয়া কোথায় যামু আম্মাজান?

এই সংবিধান লইয়া কী করমু আম্মাজান?
ওই কালা বর্ণমালা ছাই হয়া আছে, মাগো
যেন বিধানের পাতাগুলা বিধবার সাদা শাড়ি
যেন স্তব্ধ কাফনের সাদা কাপড়ের স্তুপ !

চুপ হয়া আছ কেন মুখ নিচু আম্মাজান?

তোমার তষ্যপুজির দোজাহানে কী হইল?
যদি জবাব না দাও তাহলে বইলা রাখি :
ওই বিধানের পাতা দিয়া এখোলা বাজারে
পটল তুইলা, বেচাকিনার ঠোঙ্গা বানামু !

এই সংবিধান লইয়া কী করমু আম্মাজান?

রাজনীতি মানে পোড়া মানুষের ছায়ে হাত ধোয়া না !
রাজনীতি মানে ওই চার খুঁটিঅলা জড় পদার্থ না !
রাজনীতি মানে খেটেখাওয়া মানুষের শ্রম চুরি না !
রাজনীতি মানে দাসস্য দাসের রক্ত ভেজা মাটি না !
রাজনীতি মানে আজন্ম পরাধীনতার স্বাধীনতা না !

এত লাশ লইয়া কোথায় যামু আম্মাজান?
এই সংবিধান লইয়া কী করমু আম্মাজান?
চুপ হয়া আছ কেন মুখ নিচু আম্মাজান?


সঞ্জীব পুরোহিত


কবিদের আজিজ বাজারে

আজিজের যে সিঁড়ি বেয়ে প্রতিদিন উঠি, সেখানে একটি শিশু দেখা যায়।
এ শিশুটি কুকুর শাবক হলে বেশ হতো। অন্তত গন্ধ শুঁকে শুঁকে করতো খাবার তালাশ।
মানুষ ওকে লাথি দিতো, বিস্কুট দিতো...

অথচ এ শিশুটির নিজের হিসু থেকে সরে যাবার জো নেই।
ওষুধের শাদা থার্মাকল-কার্টনে শুয়ে থাকে দিনমান।
মাঝে মাঝে ওর মাকে দেখি। যেন ভাঙারি ভর্তি বস্তা থেকে মাত্র বেরুলো।
বহু পুরুষের নির্দয় হাতে থেতলানো স্তন তুলে দিচ্ছে। শিশুটি কী টানে, দুধ না রক্ত?

এদিকে মহামতি কার্ল মার্কসের ছবি বুকে ছাপ মেরে খদ্দেরের সাথে কথা বলে চলি।

দঈত আন্‌নাহাল


সুশীল ক্রাইসিস !

আমি যখন ভাবতে আছিলাম
তোমার পাছার দিকে চায়া
দাতের ব্যবহার-
ঠিক তখন ই আমি হয়া গ্যালাম
সুশীল
চোখের ময়লা মোছতে মোছতে-
তুমিও কি তখন ভাবতে আছিলা
এমতে!
তোমার কি প্রয়োজন পড়ে নাই
চোখের ময়লা মোছার
তক্ষুনি!

আসো
আমরা চোখের ময়লা মোছায়
ক্ষান্তি দেই,
বরং দেখি
শান্তিতেই
একে অন্যের পাছা আর বুক-
চোখের ময়লা মোছায় নাই সুখ...

তুমি আর কতোদিন
সুশীল থাকবা!

আমার ধর্ম প্রতিবন্ধি চোখ!
কেবল তোমর পাছা আর বুক এর
ব্যাপক সুরসুরি!
এমতে তুমি আর কতোদিন
সুশীল থাকবা!
আসো
আঙুলের ডানায়
একে অন্যের
ভিতরে ঘুরি-

চোখের ময়লার দামে
কিনা নেই
সুশীল সুরসুরি-

বাজারে উহার কদর
আসো বেচে দেই
এই বাজারেই!

-১৭১০১২


কৌস্তভ ভট্টাচার্য


সাফারি

জঙ্গলে বিকেল আসে-
সন্ধের মতো।
কয়েকটা রাত অপেক্ষা করে থাকে-
পিচের রাস্তা দিয়ে আবার কবে-
জিপগাড়ি যাবে।

মা খুঁজে বেড়ায় গোটা দুই,
হরিণের শিশু।
পাখিদের ঘরকুনো-
উচাটন বাড়ে।
নির্লিপ্ত ডালপালা-
রাজধানীর খবরের,
থোড়াই কেয়ার করে।

------------------------------

কুমিরের ঘুম ভাঙে,
আবার সকাল হলে-
পাখিদের জন্য নদী বেছে রাখে,
পাখিদের চর।
মাছরাঙা, ব্রাহ্মিণী কাইট-
সেইসব গল্প জমিয়ে রাখে-
তোমায় বলবে বলে।
এইসব এককড়ি, তিনকড়ি,
অটোভাড়া-আনোয়ার শা-
কানামাছি ছেড়ে,
প্রিয়তমা-
কবে তোর যাবার সময় হবে?

গুরুভাই অরণ্য বাঙালি


দিব্যি তুমিও...

যেদিন
তুমি আমায় ভুলে থাকো,
সেদিন কাটে ক্যামন কোরে
বলতে পারো?
তবুও তুমি
আমায় ভুলে দিব্যি থাকো,
আর সকলের মতন তুমিও
রোদ-হাওয়া-জল গায়েই মাখো!
বলিহারী যাই, সোনামন,
ক্যামন ক’রে অমন তুমি
দিব্যি আমায় ভুলেই থাকো?

১৩ নভেম্বর ২০১১
রোববার


সিপাহী রেজা


চিরকুট ৭৩৫

ঊরু - নাভি - যোনি - নিতম্ব - কটি - স্তন,
মাছ ধরার সবচে কার্যকারী কয়েকটি অস্ত্রের নাম !!

মাছ রাখার জায়গা আবার ভিন্ন, উহাকে মন বলে...
সেখানকার পরিবেশ জলজ, কিন্তু ঢুকলে হাঁসফাঁস লাগে।


মনিরুজ্জামান খান


অগভীর

কোনো কিছুর অন্তরেই যুতসই ঢোকা হয় না আর
ঢোকা হয় না বৌয়ের ভাঁজ করা অন্তরে
সে হেসেলের আগুনে জ্বলে জ্বলে একাকিত্ব পোহায়
আর আমি বিবাহপূর্ব অসম্পূর্ণ মোহে
অন্তর খুড়ে জলের পরশ পেতে চাই কিন্তু
ইয়াজূজ-মাজূজের মত আজন্ম খোঁড়াখুঁড়িই সার।
সন্তানগুলো ক্রমাগত ডোরেমন আর বার্বি হতে থাকে
ওদের অন্তরের ঘ্রাণ আমি নাগালে পাই না।
মা আমার জীবনের পেনশন কাটাতে থাকে
যেন ভিন কোনো রুক্ষ ভয়ের গ্রহে
আমি দীর্ঘ কাল তাকে ভুলে থাকতে পারি
মাঝেসাঝে হ্যচকা টান খেলেও
শেষমেষ তা ভুলে থাকারই নামান্তর হয়ে থাকে।
এই শহরটার কোলে দোল খেতে থাকলেও
তার অন্তরের খোঁজ পাইনি কখনো
উঁচু দালান ঘেঁষে ভাঙ্গা ভাঙ্গা আকাশে তাকালে
বুঝতে পারি এখানে আজীবন কয়েদ খেটে যাচ্ছি।
এমন নয় যে আমি কখনো অন্তরের অন্তর ছুঁতে পারিনি-
শৈশবে কৈশোরে যাদুমন্ত্রের মত
অন্তরগুলোতে ঢুকতে পেরেছি
সেই স্বাদ আজো মুখে লেগে আছে-
ভোরের শিশির আর ধান ক্ষেতের অন্তরে
খালে ভাসা নৌকা আর হিজল ফুলের অন্তরে
রাজু সাজু ফুলির কাকচক্ষু অন্তরে
দিন রাত আর চাঁদের অন্তরে।
তখন আমার জগতটাই ছিল অন্তরময়,
কচি অন্তরে এত অন্তর যেন সইলো না,
একটা নদীপথ বেয়ে
একটা ঐতিহাসিক অভিবাসনে
সদরঘাট হয়ে সবুজবাগ
আর এখন, প্রাক যৌবনের সন্ধ্যামালতিকে
ছুঁতে না পারার অপরাধে দন্ডিত হয়ে
ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছি এই মিরপুরে
অন্তরের নিরন্তর অগভীরতায়।

২৫/১২/১২


খন্দকার নাহিদ হোসেন


শীতপুরাণ

কাজল বাক্যে লেখা ছিল-
‘যার জন্ম বালক বংশে
সে চোখ মেলেই দেখবে ডাইনি রোদ!’
অথচ
দরগাতলায় কুয়াশা ও কুয়াশা
রেহেলে পবিত্রগ্রন্থ......
এইটুকু স্মৃতি নিয়ে কৈশোরের জন্ম শীতে।

এমন কেন হয়?
শেষমেশ হাতে তাবিজ ঝুললো
ঘরে পড়লো তন্ত্র মন্ত্রেরই ছিটা
কপাটেও আঁকলাম-তপ্ত শিখা
তবু কিছুতেই কিছু হলো না
এখনো বুকের ওমে খলবলায়-
অসুরী সে শীত। 

প্রাচীরের পাড়ে শুনি বাসনার বোল
এপাশে ফাটল বিকার-ঠোঁট কাঁপে!
যে নারীর দেহ গায়ে ভেঙে ভেঙে পড়ে
তাকেই দিয়েছি শুধু যাদুরই কাঠি-
মেয়ে, জেনো  ভূভাগের শুধু তুমিই
এ দেহে দুঃখ জ্বালাতে পারো।

এক নারী শীতের সালুনে সাধে
ভুলে যাওয়ার তপ্ত সুধা
সে কি জানে জিভের নিয়ৎ?
জানে কি-কোন সে টিপে
প্রিয় লাগে তিরতিরে সুখ
এক মানবীর আঁকড়ানো নাভির কাঁপন?

শব্দে শীত ঠোকরায়
ওড়ে রমণক্লান্ত নারীর শাড়ি
কোন বাক্যে বোঝাই দুঃখগাঁথা?
যেখানেই যাই যে পথেই চলি
মোড়ে মোড়ে হিম চঞ্চু
পালকেই মুখ গুঁজে থাকে পড়ে!

‘পারানির বৈঠা হাতে
তবু ভালোবাসা কাছিমের চলা!’
এ সত্য যে প্রিয়-
মিলিয়ে যাওয়া এক মানবীর মতো।
মেয়ে, আল্লাহর কিরা-
জাজিমে গোঙানি সুখ
শীত আউরায় অগ্নি অগ্নি!

সজল সমুদ্র

ভরসা

সড়ক যেখানে শেষ সেইখানে শুরু আলপথ;
আধভাঙা ব্রীজের পরে যারা লাফিয়ে পড়েছে-
তাদের ঠিকানা আজ সুদূর সমুদ্র...

অবিরাম পাঠাচ্ছে হাওয়া, হিংসা, প্রেমের ইশারা;
থেকে থেকে অন্ধ সারস আর মৃত মাছের সংকেত-
শিকারে বেরিয়ে নিয়ত ‘শিকার’ হচ্ছে যারা...

সকল তামাশার পরও ঘন বরষায় আছো অপার ভরসা...

বেলাল আহমেদ


বিসর্জন

ঠোঁট দেখলে মনে হয় লেগে আছে হাসি
বনহাঁসের মতো আর সমস্ত শরীরে খুলে যায়
এ অর্বাচিনের দশপথ

তোমার হাওয়ায় কভু ভূখা ছিলাম না আমি
পঁচিশ বছর শেষে দেখি চুলের জঙ্ঘাজুড়ে
অন্ধকার হয়ে গেছে বয়স্ক মোকামের স্মৃতি

হিমা, তোমাতে বিসর্জন আমার সমস্ত শরীরের পথ

ইয়াসীন ফিদা হোসেন


কবিতা না থাকলে কবিতা লিখিয়েরা ধর্মযাজক হতেন।

কবিতা না থাকলে কবিতা-লিখিয়েরা কী হতেন তা নিয়ে আমি মাঝে মাঝে ভেবেছি। যতই ভেবেছি ততই অস্থির হয়েছি, ক্লান্ত হয়েছি। আমি দীর্ঘ সময় ভেবেই পাইনি কবিতা না থাকলে কী হতো ! কবিতা-লিখিয়েরা কি তবে ফেরিওয়ালা হতেন, অদক্ষ কেরানী হতেন, ভবঘুরে বা সন্ন্যাসী হতেন নাকি চুড়ি-ফিতা বা সবজি বিক্রি করতেন? আবার মাঝে মাঝে ভেবেছি, কবিতা না থাকলে হয়তো তারা রাজমিস্ত্রী বা দিন-মজুর হতেন, বা হয়তো ক্ষেতচাষ করতেন, সারাদিন পরিশ্রম করে মুরগির ঝোল দিয়ে নরম ভাত খেতেন। কবিতা না থাকলে কি তারা যুদ্ধে যেতেন? যেতেন হয়তো কেউ কেউ, কেউ কেউ হয়তো আশ্রয় নিতেন শরণার্থী শিবিরে। গান লিখতেন কি, অথবা গাইতেন?

আমার নিজের কাছে বিব্রত লেগেছে অনেকবার। কী করতেন তারা কবিতা না থাকলে, পরিপাটি সংসার করতেন? নিয়ম করে বাজারে যেতেন ফর্দ নিয়ে? হতে পারে কেউ হয়তো ডিঙি নৌকার মাঝি হতেন, জাল দিয়ে মাছ ধরতেন।

আমি কিছুই মেলাতে পারিনি, কিছুতেই না। একবার মনে হয়েছে পরিব্রাজক হতেন হয়তো। বা বাঁশিওয়ালা। স্কুল শিক্ষক হতেন না নিশ্চই, স্যুট টাই পরে অফিসও করতেন না। আমি নিশ্চিত, কবিতা না থাকলে আর যাই হোক অন্ততঃ তারা চাটুকার হতেন না, প্রতারক হতেন না। স্বপ্ন নির্মাণ করতেন হয়তো।


আমি নিশ্চিত, কবিতা না থাকলে কবিতা লিখিয়েরা ধর্মযাজক হতেন। বিচিত্র ধর্ম বিশ্বাসে প্রতিনিয়ত দীক্ষা নিতাম আমরা।