শুক্রবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

মনিরুজ্জামান খান


অগভীর

কোনো কিছুর অন্তরেই যুতসই ঢোকা হয় না আর
ঢোকা হয় না বৌয়ের ভাঁজ করা অন্তরে
সে হেসেলের আগুনে জ্বলে জ্বলে একাকিত্ব পোহায়
আর আমি বিবাহপূর্ব অসম্পূর্ণ মোহে
অন্তর খুড়ে জলের পরশ পেতে চাই কিন্তু
ইয়াজূজ-মাজূজের মত আজন্ম খোঁড়াখুঁড়িই সার।
সন্তানগুলো ক্রমাগত ডোরেমন আর বার্বি হতে থাকে
ওদের অন্তরের ঘ্রাণ আমি নাগালে পাই না।
মা আমার জীবনের পেনশন কাটাতে থাকে
যেন ভিন কোনো রুক্ষ ভয়ের গ্রহে
আমি দীর্ঘ কাল তাকে ভুলে থাকতে পারি
মাঝেসাঝে হ্যচকা টান খেলেও
শেষমেষ তা ভুলে থাকারই নামান্তর হয়ে থাকে।
এই শহরটার কোলে দোল খেতে থাকলেও
তার অন্তরের খোঁজ পাইনি কখনো
উঁচু দালান ঘেঁষে ভাঙ্গা ভাঙ্গা আকাশে তাকালে
বুঝতে পারি এখানে আজীবন কয়েদ খেটে যাচ্ছি।
এমন নয় যে আমি কখনো অন্তরের অন্তর ছুঁতে পারিনি-
শৈশবে কৈশোরে যাদুমন্ত্রের মত
অন্তরগুলোতে ঢুকতে পেরেছি
সেই স্বাদ আজো মুখে লেগে আছে-
ভোরের শিশির আর ধান ক্ষেতের অন্তরে
খালে ভাসা নৌকা আর হিজল ফুলের অন্তরে
রাজু সাজু ফুলির কাকচক্ষু অন্তরে
দিন রাত আর চাঁদের অন্তরে।
তখন আমার জগতটাই ছিল অন্তরময়,
কচি অন্তরে এত অন্তর যেন সইলো না,
একটা নদীপথ বেয়ে
একটা ঐতিহাসিক অভিবাসনে
সদরঘাট হয়ে সবুজবাগ
আর এখন, প্রাক যৌবনের সন্ধ্যামালতিকে
ছুঁতে না পারার অপরাধে দন্ডিত হয়ে
ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছি এই মিরপুরে
অন্তরের নিরন্তর অগভীরতায়।

২৫/১২/১২




মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।