গোলাম কিবরিয়া পিনু বিরচিত "উদরপূর্তিতে নদীও মরে যাচ্ছে"-পাণ্ডুলিপিটি বই আকারে প্রকাশিত হবে ২০১৪ ইং বর্ষের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। বইটির প্রকাশনায়ঃ শুদ্ধস্বর, প্রচ্ছদঃ তৌহিন হাসান। বইটির সম্বন্ধে জানাতেই প্রকাশিতব্য পাণ্ডুলিপির মধ্যথেকে বেশ কয়েকটি কবিতা নিয়ে কার্তুজের এবারের রাউন্ড "পাণ্ডুলিপি সমাচার ২০১৪"
- উদরপূর্তিতে নদীও মরে যাচ্ছে -
ময়লা
আমরা পরস্পরকে তাড়া করে বেড়াচ্ছি, এরমধ্যে শত্রুতার
মুচকি হাসি হেসে আরামকেদারায় বসে আরও দু’পেয়ালা
কফি খেয়ে নিচ্ছি চা’য়ের বদলে। পরস্পরকে উত্তেজিত করে
একেকটি দরোজার গায়ে মাখি কাদা, কখনো কখনো থুথু
ছিটাই—মাছি ভনভন করে, নিজেরাও শেষমেষ ভিক্ষা নিয়ে
কারো কারো কাছে মাছি হয়ে যাই! নগরে-শহরে-গ্রামে-গঞ্জে
ঠান্ডা নেমে আসে। আমাদের বাক্যরীতি প্রীতিমাখা থাকে না
যখন, তখন মনে হয় আমরা একেকজন ঝাড়–দারের ঝাড়–র
আওতায় নিকৃষ্ট ময়লা, যে ময়লা এখন ঝাড়–দারও বহন
করতে চাইছে না!
বরফের মধ্যে ঠান্ডা
একটি উত্তপ্ত হৃদয়—একটি ঠান্ডামস্তিষ্কের কাছে গিয়ে
কী করবে? যাওয়ার আগে ধারণা না নিলে বরফের মধ্যে ঠান্ডা
হয়ে যেতে হবে। এসব ক্ষেত্রে নিজের ত্রাণকর্তা নিজে
না হলে মুশকিল, নিজের মুক্তি কীভাবে হবে? মানুষকে চেনা
যায় বিভিন্ন ধাপে ও খাপে। পরিচিতি মানুষও কেমন
অচেনা হয়ে যায় স্বার্থের ভূগোলে! গভীর তলা ভেদ করে
নাঙল চালালে অনুভব করা যায়—ওটা কাঁকুরে মাটি
নাকি এঁটেল মাটি!
পায়রার খোপে খোপে বাজপাখি
১
কুকুরে খাওয়া ভাত, সাপে খাওয়া ফল
আর পোকা খাওয়া বই দিয়ে আমাদের চলবে না
জোড়াতালি পোশাক পরবো আর কতকাল?
২
কলুর বলদ হয়ে খেটে খেটে
ঋণজালে পড়ে—পুটিমাছ হয়ে যাই খালে
চৈত্রমাসে পানি শুকালেই মরণ!
৩
ইক্ষুর রস না পেয়ে ধ্বস নেমে আসে
শরীর ও মনে—
সেইসাথে মস্তিষ্কের নিউরনে!
৪
পায়রার খোপে খোপে এসে পড়ে বাজপাখি
কষ্টের ধন লয় চোরে—
বাটাভরা পান পড়ে থাকে দোরে!
৫
জলপ্লাবনে ভেসে যাই
জঠরজ্বালায় হাঁড়িতে ভাত নাই
তবু কাতর ও ব্যাকুল হবো না?
৬
যদিও কর্ণগোচর না করি
তবে কথাও জমতে জমতে
তা হবে কি স্বর্ণের ভরি!
৭
ঘুরেফিরে কারা যায়?
যারা অধোমুখে—অধঃশিরে থাকে!
ঘরে গিয়ে ডাকতে পারে না মাকে!
৮
মস্তকাবরণী এতবার পরিবর্তন—
একই মানুষের। মুখ রাঙা হয় না লজ্জায়
কখন যে চলে যায় কার সজ্জায়!
আমরা পরস্পরকে তাড়া করে বেড়াচ্ছি, এরমধ্যে শত্রুতার
মুচকি হাসি হেসে আরামকেদারায় বসে আরও দু’পেয়ালা
কফি খেয়ে নিচ্ছি চা’য়ের বদলে। পরস্পরকে উত্তেজিত করে
একেকটি দরোজার গায়ে মাখি কাদা, কখনো কখনো থুথু
ছিটাই—মাছি ভনভন করে, নিজেরাও শেষমেষ ভিক্ষা নিয়ে
কারো কারো কাছে মাছি হয়ে যাই! নগরে-শহরে-গ্রামে-গঞ্জে
ঠান্ডা নেমে আসে। আমাদের বাক্যরীতি প্রীতিমাখা থাকে না
যখন, তখন মনে হয় আমরা একেকজন ঝাড়–দারের ঝাড়–র
আওতায় নিকৃষ্ট ময়লা, যে ময়লা এখন ঝাড়–দারও বহন
করতে চাইছে না!
বরফের মধ্যে ঠান্ডা
একটি উত্তপ্ত হৃদয়—একটি ঠান্ডামস্তিষ্কের কাছে গিয়ে
কী করবে? যাওয়ার আগে ধারণা না নিলে বরফের মধ্যে ঠান্ডা
হয়ে যেতে হবে। এসব ক্ষেত্রে নিজের ত্রাণকর্তা নিজে
না হলে মুশকিল, নিজের মুক্তি কীভাবে হবে? মানুষকে চেনা
যায় বিভিন্ন ধাপে ও খাপে। পরিচিতি মানুষও কেমন
অচেনা হয়ে যায় স্বার্থের ভূগোলে! গভীর তলা ভেদ করে
নাঙল চালালে অনুভব করা যায়—ওটা কাঁকুরে মাটি
নাকি এঁটেল মাটি!
পায়রার খোপে খোপে বাজপাখি
১
কুকুরে খাওয়া ভাত, সাপে খাওয়া ফল
আর পোকা খাওয়া বই দিয়ে আমাদের চলবে না
জোড়াতালি পোশাক পরবো আর কতকাল?
২
কলুর বলদ হয়ে খেটে খেটে
ঋণজালে পড়ে—পুটিমাছ হয়ে যাই খালে
চৈত্রমাসে পানি শুকালেই মরণ!
৩
ইক্ষুর রস না পেয়ে ধ্বস নেমে আসে
শরীর ও মনে—
সেইসাথে মস্তিষ্কের নিউরনে!
৪
পায়রার খোপে খোপে এসে পড়ে বাজপাখি
কষ্টের ধন লয় চোরে—
বাটাভরা পান পড়ে থাকে দোরে!
৫
জলপ্লাবনে ভেসে যাই
জঠরজ্বালায় হাঁড়িতে ভাত নাই
তবু কাতর ও ব্যাকুল হবো না?
৬
যদিও কর্ণগোচর না করি
তবে কথাও জমতে জমতে
তা হবে কি স্বর্ণের ভরি!
৭
ঘুরেফিরে কারা যায়?
যারা অধোমুখে—অধঃশিরে থাকে!
ঘরে গিয়ে ডাকতে পারে না মাকে!
৮
মস্তকাবরণী এতবার পরিবর্তন—
একই মানুষের। মুখ রাঙা হয় না লজ্জায়
কখন যে চলে যায় কার সজ্জায়!
মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।