মাসুদ খান বিরচিত "এই ধীর কমলাপ্রবণ সন্ধ্যায়"-পাণ্ডুলিপিটি বই আকারে প্রকাশিত হবে আগামী ২০১৪ ইং বর্ষে। বইটির সম্বন্ধে জানাতেই প্রকাশিতব্য পাণ্ডুলিপির মধ্যথেকে বেশ কয়েকটি কবিতা নিয়ে কার্তুজের এবারের রাউন্ড "পাণ্ডুলিপি সমাচার ২০১৪"
- এই ধীর কমলাপ্রবণ সন্ধ্যায় -
ডালিম
যুগের যুগের বহু বিষণ্ণ বিবর্ণ মানুষের দীর্ঘনিঃশ্বাসের সাথে
নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড-
তা-ই থেকে তিলতিল কার্বন কুড়িয়ে
জমাট বাঁধিয়ে, কাষ্ঠীভূত হয়ে
তবে ওই সারি-সারি দিব্যোন্মাদ ডালিমের গাছ।
বৃক্ষের যতটা সাধ্য, তারও বাইরে গিয়ে
তবেই-না ওই টানটান বেদানাবৃক্ষ, ব্যাকুল বেদনাকুঞ্জ, মায়াতরু...রূপাঙ্কুর...রূপসনাতন...
পাতার আড়ালে ফাঁকে-ফাঁকে ফলোদয়
থোকা-থোকা গুপ্ত রক্তকূপিত উত্তপ্ত বিস্ফোরণ
রামধনুরঙে, মগ্নছন্দে
ফলিয়ে ফাটিয়ে তোলে ডালে-ডালে লালাভ ডালিম।
বসে আছি ম্রিয়মাণ... বেদনাবৃক্ষের নিচে, পড়ন্ত বেলায়।
সামনে খুলে মেলে-রাখা একটি ডালিমফল, তাতে
প্রভূত বেদানা-দানা, নিবিড় বেদনাকোষ...আর,
বেদানার দানারা তো আর কিছু নয়, জানি-
টলটলে করুণ চোখে রক্তজমা চাবুক-চাহনি...
ভাবি,
এতসব ডালিমকোষের মধ্যে, ঠিক কোন কোষটি রচিত
আমারই সে ন্যুব্জ ব্যর্থ বিষণ্ণ পিতার বাষ্পঠাসা দীর্ঘশ্বাসের কার্বনে!
ঘনীভূত হয়ে ওই বায়ব অঙ্গার, তিলে-তিলে, অনেক বছর ধ’রে...
কৌতুকবিলাস
ঈশ্বর ছুঁড়েছে ঢিল ঈশ্বরীর দিকে, কৌতুকবিলাসে।
গ্রহটিকে মাটির ঢেলা বানিয়ে ব্রহ্মাণ্ডের এক প্রান্ত থেকে
ক্ষেপণ করেছে ভগবান, অন্য প্রান্তে থাকা ভগবতীর প্রতি।
মহাকাশ জুড়ে প্রসারিত মহাহিম শূন্যতা, লক্ষ-ডিগ্রি নিস্তব্ধতা-
তারই মধ্য দিয়ে একপিণ্ড ছোট্ট শ্যামল কোলাহল হয়ে
ধেয়ে যাচ্ছে এই ঢিল।
ঢিল নয়, মহামিসাইল-
মহাকাশের জোনাক-জ্বলা ঝোপঝাড়ের ভেতর দিয়ে
একের পর এক যমজাঙাল পেরিয়ে মিথ্যা-ইথারে অস্থির
ঢেউ তুলে ছুটছে ঢিল অযথা আহ্লাদে
গোঁয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের মতো একদিকে টাল হয়ে চক্কর খেতে খেতে
ঘোর-লাগা লাটিমঘূর্ণনে
আহ্নিকে বার্ষিকে ধোঁয়াজটিল বেগব্যঞ্জনায়-
যে বেগ উদ্ভ্রান্ত, যেই গতি একইসঙ্গে ঋজুরেখ বক্র চক্রাকার
ঘূর্ণ্যমান নাটকীয় একরোখা দুর্ধর্ষ ও ওলটপালট...
ছুটতে ছুটতে হয়রান ঢিলখানি।
ওদিকে ঈশ্বরী, ওই রাঘবরহস্যে-ঘেরা উত্তুঙ্গ রহস্যরাজ্ঞী,
সর্বনাশা এক ভাব-আলেয়ার ভাব ধরে অজ্ঞাত স্থানাঙ্কে ব’সে
থেকে-থেকে ছিনালি-হাতছানি একটু দিয়েই সরে যাচ্ছে দূরে।
মুহূর্তে মুহূর্তে ফুলে-ফেঁপে ওঠে মহাকাশ।
বেঁকে-যাওয়া, বাঁকতে-থাকা, ক্রমপ্রসারিত
এক দেশকালের ভেতর দিয়ে ঘটতে থাকে
ঢেলাটির উদ্ভ্রান্ত উন্মাদ ছুটে-চলা। আর
ছিটকে পড়ার ভয়ে ভয়ার্ত শিশুর মতো ঢেলাটির গা আঁকড়ে ধ’রে
চাম-উকুনের মতো চিমসা দিয়ে পড়ে থাকে প্রাণপণ
তটস্থ ও অসহায় প্রাণিকুল।
খেলা করে ভগবান ভগবতী-বিপদজনক ঢিল-ক্ষেপণের খেলা।
আর রোমাঞ্চে ও ত্রাসে শিউরে-শিউরে কেঁপে ওঠে তাদের শিশুরা।
রাগকৃষ্ণ
যে টানটান আবেগে, আকর্ষণে
সমুদ্রের কোটি-কোটি টন পানি
আকাশে উড়িয়ে নিয়ে চলো তুমি মেঘের বাহনে,
কিছুটা শিথিল করে তার, ওই মহাজলভার
যাবার পথেই যাও ঝরিয়ে খানিক...
যোজনজলীয় ভাবাবেশ ভেঙে নেমে এসো, থেকে যাও কিছুটা সময়
আমি যে ময়ূর মেলে বসে আছি নিচে
আনমনা সাধিকার মতো, রসভ্রষ্টা, এলোমেলো...
বহুদূর পড়ে থাক হিমগিরি মেঘালয়, আরো দূর সাধের নির্বাণপুর...
ওগো ঘনশ্যাম মেঘ, আমার কৃষ্ণের রঙে রং, ওহে বলাহক,
তুমি যে যোজনবাষ্প রাগকৃষ্ণ আমার- তোমার মধুমালতী রাগের
ধারাবিবরণী ছাড়া অসম্ভব হয়ে ওঠে যুগলসাধন।
ঘনঘন রসভ্রম ঘটে, রতিভঙ্গ হয়...
আমার এ নিত্যলীলা, পেখমবিলাস, হায়, বৃথা যায় যায়...
রাগ করে হলেও, মুখটি কালো করে হলেও একবার
সম্প্রচার করো ধারাবিবৃতি তোমার।
শ্যামরঙা সত্য আর ধবল মিথ্যার মাঝে যেইটুকু ধূসর প্রভেদ,
ঘুচিয়ে দিয়ে তা ধীরে ধীরে
প্রথমে কালচে, পরে ভস্মিল ধূসর, আরো পরে ধবল বাদল হয়ে
নেমে এসো মেদিনীমণ্ডলে, অধীনার ভাঙা টিনের কুটিরে-
কালো সত্য ক্রমে বদলে দিয়ে এক সফেদ মিথ্যায়।
মুখোমুখি
(কবি সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ, শত্রুতর বন্ধু, বন্ধুতর শত্রুবরেষু)
কে হে তুমি প্রতিবাক্য ছুড়ে দিচ্ছ বারবার ওইপার থেকে
প্রতিপদ স্থানাঙ্কে দাঁড়িয়ে আমার?
তোমার তিরের হালকা টঙ্কার আর ধনুকের মন্দ-মন্দ জ্যা-নির্ঘোষ
বায়ুর প্রথম স্তরে আলোড়ন তুলেছিল ভোরের বেলায়-
আয়ত-চৌকো, ত্রিকোণ-বর্তুল...
এখন এ অপর বেলায়,
ওইসব শব্দের বুদবুদ বহুগুণিত হয়েই ফেটে পড়ছে
ঠা-ঠা মেঘনাদের ভাষায়-
আচমকা কোনো বোমা ফাটলে
যেমন সহানুভূতিবশে আশেপাশে পুঁতে-রাখা
সব বোমা ফাটতে থাকে এক-এক করে, সেইরূপ...
সেইরূপ বিস্ফোরক সহানুভূতির লীলা
লীলাচ্ছ হে গুপ্ত লীলাকর।
ভিন গোলার্ধের কোনো নাম-না-জানা
মর্কটে-কর্কট-লাগা এক জম্বি-প্রজাতন্ত্র থেকে ছুটে আসছে
মারণজীবাণু-মাখা জং-ধরা একাঘ্নী হারপুন।
পৃথিবীতে এত প্রাণী, তা থুয়ে কেবলই খুঁজে-খুঁজে
আমার দিকেই ধেয়ে আসে
হারপুনের দাঁত-খেঁচা হিংস্র আস্ফালন।
বীজাণুব্যসনে ন্যুব্জ এই নবদ্বার দেহ, এ-ব্যাধিমন্দির, এই ভূতাবাস, একে
উপলক্ষ করে আর কত ছুঁড়ে দেবে কল্প-ঔষধ, প্রবোধ, প্রতিবাক্যরাশি?
এমনিতেই তোমার জ্ঞানাঙ্কুশের খোঁচা খেয়ে হয়েছি কাহিল
তার ওপর এতসব প্রবোধ, ঔষধকল্প,
এই যে উপর্যুপরি সিমপ্যাথেটিক ডেটোনেশনের খেলা,
উড়াল পাখির ঝাঁকে ছুঁড়ে দেওয়া ভেল্কিজাল,
হারপুনের ভানুমতি খেল,
জ্ঞেয় দিয়ে অজ্ঞেয় ধরার লীলা...
অসহ, অসহ্য লাগছে সব
কিন্তু কখনোই বার্তা পাঠাব না থামাতে এসব।
থেকে-থেকে অবমাননার মতো গায়ে এসে বেঁধে
বিরামচিহ্নিত ধোঁয়াচিৎকার, তর্জন আর কেরদানিধ্বনি।
প্রত্যুত্তরে, পাঠাই তোমার প্রতি উচ্চকিত যত
ভাবনা আমার।
কিন্তু কী যেন কী ঘটে যায়
আমারই সশব্দ ভাবনারা হায়
আমাকেই ফাঁকি দিয়ে নিঃশব্দে মিলায়
হোগলা আর কাঁকড়াভরা হিজিবিজি জলায়, জংলায়।
জ্বরান্তক বটিকা পাঠাই,
পাল্টা পাঠাও হে তুমি পাতলা সিরাপ।
অর্শে যে সিরাপ, মধুমেহতেও তা-ই...
বড় আতান্তরে পড়ি বারবার।
আসলে কে হে তুমি? নেপথ্যে, বহুদূর যবনিকার আড়াল থেকে
বারবার হেঁকে যাচ্ছ সেই একই হিতেচ্ছা হিমেল...
“পূতি ঘেঁটে ঘেঁটে পূত হয়ে ওঠ
পুঁথি ঘেঁটে ঘেঁটে হয়ে যা রে তুই ত্রিপণ্ড পণ্ডিত
ময়লা-ঘাঁটা কীট হয়ে কাটিয়ে দে ঝকঝকে একটি জীবন।”
এক ঘোড়া একাই ধারণ করে তিন হর্স-পাওয়ার-
আমার সে-তুফানাশ্ব একদা ছুটত
মত্ত হারিকেনের উচিত ঘূর্ণি তুলে।
আজ অশ্বধর্মে মতিগতিহীন আমার সে-ঘোড়া
ব্যাটারি-ফিউজ হয়ে পড়ে আছে আস্তাবলে।
অন্তিম-গাঁজলা-ওঠা প্রিয়তম সে-ঘোড়ার
নিবিড় নিতম্বে কষে চাবুক দাগিয়ে
জলবিছুটির পাতা ঘষে দিয়ে গুহ্যপ্রদেশে, উঠিয়ে নিয়ে
যাব ঠিকই রিচার্জ করাতে।
জিল্লিক পাড়তে পাড়তে সোজা ছুটে যাবে
জিল্লিকপাড়ার সেই বেঘোর ব্যাটারি-ময়দানে।
বুস্ট চার্জ দেব। জং-পড়া টেংরি আর খুরে খুরে দেব কেরাটিন ট্রিটমেন্ট।
নিজের মেরুদণ্ডেও সেরে নেব টুকিটাকি মেরামত, রাংঝালাই।
তারপর, চূড়ান্ত চার্জিত ওই ঘোড়াকে ছোটাব
তুফানতরঙ্গ তুলে তোমার দ্রাঘিমা বরাবর।
পথিমধ্যে বাড়বাগ্নি, জলে ও জঙ্গলে, সাগরে, ভূধরে, গিরিকন্দরে...
বারুদবাতাসে ঠাসা আবহবলয়-
তারই মধ্য দিয়ে ক্ষিপ্র চৌকশ চকমকি ঠুকতে ঠুকতে ছুটতে থাকব আর
আমার সে-তুফানাশ্বের উড়তে-থাকা ধাবন্ত ধারালো
কেশরের ঘষা-লাগা-মাত্র
হাওয়ায় লাফিয়ে উঠবে লকলকে রোহিতাশ্বের শিখা।
পথে ঘনঘন-রং-বদলানো গোয়েন্দা গিরগিটি, কুতক্ষক,
কাঁটার সাঁজোয়া পরে হঠাৎ হাজির হওয়া শজারুবাহিনী,
জলে তিমি, তিমিঙ্গিল, ডাঙায় খাটাশ,
তিরিক্ষিমেজাজ কৃশ কৃকলাশ, বৃশ্চিকের ক্যামুফ্লাজ,
মৌমাছির মাধুকরী, পায়রার কপোতবৃত্তি আর
উভচর ঘোড়েলের বেতালা ঘোড়েলকাণ্ড ঠেলে ঠেলে
উজিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, তা-ও জানি...
পর্বতের ভাঁজ থেকে খসে গিয়ে অভিযাত্রীদল
টুপটাপ ঝরে পড়বে সরু গিরিপথ-দিয়ে-চলা চোরাই মাল আর
মালের কারবারিবাহী খচ্চরের কাফেলার ওপর।
পুলসেরাতের মতো সরু পুল- তার ওপরে
ভল্ল-হাতে নাঙ্গা পুলিশের মতো সার-সার দাঁড়ানো
একচক্ষু হিংস্র ঊনমানব, বামনপ্রজাতির।
তাদের কিনার দিয়ে তুরন্ত তাড়িয়ে
উড়িয়ে নিয়ে যাব ঘোড়াকে আমার।
ছুটতে ছুটতেই ছোঁ মেরে উঠিয়ে নেব
দু-একটি শস্ত্রপাণি বিচ্ছুটে বামন।
ওদিকে নটখটে কিছু হনুমান নিজ-নিজ লেজে
আগুন লাগিয়ে নিয়ে ডাল থেকে ডালে
চিল্লাতে চিল্লাতে ধোঁয়া-মাখা হুতাশন দিয়ে যাবে ভিমরুলের চাকে।
লেগে যাবে মহা-ভজঘট, শুরু হবে ভেলকিনাচ
উল্লুক-ভল্লুক-সিংহ-শুয়োর-তরক্ষু-অধ্যুষিত ওই জঙ্গল-সাম্রাজ্যে।
জাঁকান্দানি শুরু হয়ে যাবে রীতিমতো
পরাক্রান্ত স্বরাট সিংহের একচ্ছত্র পরাক্রমে।
বেলাশেষে অ্যাশফল্টের ঘোর ধোঁয়াভস্মের মতন
মিশিকৃষ্ণ অমানিশা নামবে এক আয়ামে জাহেলিয়ার।
শতশত চেরাজিভ সরীসৃপ-চমকানো আঁধার আকাশ...
ছিঁড়ে-যায়-যায়-প্রায় শনি ও রবির মাঝখানকার
সঘন বুনটবদ্ধ সুদীর্ঘ সেলাই...
অবশ্যই দেখা হবে একদিন। এবং অচিরেই।
তারপর লড়াই হবে মুখোমুখি সেয়ানে সেয়ান...
আড়াই প্যাঁচের চালে, গণেশ-উল্টানো গ্যাংনাম তালে
ফণা-তোলা ফানাফিল্লা ছন্দে, ফোস্কা-ফোটা অশ্বগন্ধে
তিন্তিড়ি গাছে জোনাকির ঝাঁকে তিড়িংবিড়িং ভেলকির ফাঁকে
দ্যাখো-না হে খালি বিতিকিচ্ছিরি
কী-কী ঘটে আর মহা-ধুন্ধুমার ধুলান্ধকারে আ-কারে ই-কারে
হ্রস্ব-ল্লির উল্টাপাল্টা উল্লম্ফনে
ফাটাফাটি আর মারকাটারি শর্ট-সার্কিটে
তামাশা খামোশ-করা পাল্টা-তামাশায়
সার্কাস উল্টে-দেওয়া অ্যান্টিসার্কাসে
গজব-জাগানো কেয়ামত যেন ব্লাডার-ফাটানো গেণ্ডুয়া খেলা...
দ্যাখো-না হে খালি,
কী-কী ঘটে আর মহা-ধুন্ধুমার ধুলান্ধকারে আকারে বিকারে
হ্রস্ব-ল্লির চিল্লাপাল্লা নাচনে-কুঁদনে
ব্লাডার-ফাটানো গেণ্ডুয়া খেলা...দুর্যোধনে দুঃশাসনে...
খুন ও জখম শকুন শকুনি অশ্বত্থামা...
তোমাদের ওই আরাম-আরাম তুলতুলতুলে তাসের রাজ্যে
ঘটিয়ে দেবই মৌলিক হাঙ্গামা...
দেখো, বৃথা যেন নাহি যায় কিছুতেই
আমাদের অনচ্ছ অথচ উচ্চ-ভোল্টের সমরনীতি, যুদ্ধরঙ্গ
এবং এ জঙ্গসমীকরণে সুমেরুপক্ষ হও যদি তুমি
আমি হব নিশ্চিত বিষুবপার্শ্ব তবে।
যুযুধান আমরা দু-পক্ষ মিলে, পরস্পরে,
মেটাব গায়ের ঝাল
গরমাগরম
কেবলই ঘটিয়ে যাব লাগাতার
প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি আর
বলাই বাহুল্য, সব ক্ষতিই অবধারিতভাবে কোল্যাটারাল।
মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।