মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৪

মুজিব ইরম


মুজিব ইরম বিরচিত "কবিবংশ"-পাণ্ডুলিপিটি বই আকারে প্রকাশিত হবে ২০১৪ ইং বর্ষের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। বইটির প্রকাশনায়ঃ ধ্রুবপদ এবং প্রচ্ছদ করেছেন চারু পিন্টু। বইটির সম্বন্ধে জানাতেই প্রকাশিতব্য পাণ্ডুলিপির মধ্যথেকে বেশ কয়েকটি কবিতা নিয়ে কার্তুজের এবারের রাউন্ড "পাণ্ডুলিপি সমাচার ২০১৪"

- কবিবংশ -



কবিবংশ
আদিপুস্তকোত্তর ১লা কুলজি

লিখিয়াছি কবিবংশ আদি সে-কিতাব, তবুও তো ধরে রাখি অতৃপ্ত অভাব। বংশ বংশ করি বেশ কেটে গেলো কাল, রক্তে জাগে সেই ভাষা যাবনী মিশাল। শ্রীকর নন্দীর বাণী দেশী ভাষা কহে, কবি শেখর এ-বংশে লৌকিক বিছারে। বঙ্গবাণী নাম ধরি আব্দুল হাকিম, ভাষাবংশে আদিগুরু আমি সে তো হীন। কী প্রকারে তার নামে প্রণামিব হায়, আতারে-পাতারে খুঁজি মনে ন জুয়ায়। সেই তো হয়েছে শুরু আমাদের দিন, ভুসুকুপা তস্য গুরু বাঙ্গালী প্রাচীন। আরো এক বংশবাতি সগীরের নামে, বৃন্দাবন দাস নমি চৈতন্য প্রচারে। বড়ুচণ্ডীদাস ভনে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মুকুন্দ রামের নামে পরাই চন্দন। রামাই পণ্ডিত রচে পাঁচালি সঙ্গীত, প্রভুর চরণে মজে নিজ মত্ত চিত। সেই যে বাঁধিল গীত কানা হরিদত্ত, এ-মূর্খ রচিবে কী যে ভবেতে প্রমত্ত। বিজয় গুপ্তের নামে বংশবাতি পায়, ইরম মাগিছে দয়া বংশগরিমায়।

পরিশিষ্ট প্রণাম: প্রণামে-সুনামে গড়ি শব্দ-বাক্য-মিথ, পয়ারে-খেয়ালে শুধু গাই বংশগীত। অন্ধকার যুগে বাঁধি গয়েবি কামোদ, পটমঞ্জরীতে সঁপি সেই সুদবোধ। আমি যে বাঁধিবো তাল কুলিন রাগিনী, ভূর্জপত্রে নতজানু দয়া কী মাগিনী! তুমি কন্যা বেঁধো সুর মর্জি যদি হয়, এই বংশে জেগে থাকে চর্যাবিনিশ্চয়।


পোঃ কামালপুর বাজার

কামালপুর বাজারের নরসুন্দরেরা আমার জাসদ বাবরি কেটে দিয়েছে বড়ো যত্ন সহকারে, খলিফারা যথারীতি কাপড় সেলাই করে দিয়েছে বড়ো মন মতো করে, খেয়াঘাট ড্রাইক্লিনার্স থেকে হামেশাই ধবধবা হয়ে ফিরেছে আমার দুধসাদা সার্ট, পোস্ট অফিস আমাকে ঠিকই পৌঁছে দিয়েছে পত্রমিতালীর চিঠি, জং ধরা ডাকবাক্সে তোমার নামে ফেলেছি কতো বেয়ারিং কুশল―অপেক্ষা প্রহর, ৩ নং কামালপুর ইউনিয়নের দাওয়ায় আমারও কেটেছে কতো স্কুল পালানো দিন, তুমিও গিয়েছো হেঁটে উড়িয়ে ধুলো সদর রাস্তায় বহুপাক্ষিক বিদ্যালয়ের দিনে।

আজও আমি লাস্টবেঞ্চ, আজও আমি ৩ নং কামালপুর ইউনিয়নের দাওয়ায় স্কুল পালানো দিন―কী করে আমি তবে দেশছাড়া বংশছাড়া হই!


বংশদীক্ষা

বগলী না-শিখেই আমি সাইকেল চালানো শিখে গিয়েছিলাম! আমার পূর্বপুরুষের পা বড়ো লম্বা ছিলো! তবে যে-সাইকেল আমি ভাড়া করেছিলাম, তার কোনো ব্রেক ছিলো না বলে একবার নারিকেল গাছে, আরেকবার খালের জলে পড়ে গিয়েছিলাম। আর যারা সিটে বসতে না-পেরে বগলী নিয়মে কষ্টেসৃষ্টে খাটো পা নিয়ে সাইকেল চালানো শিখেছিলো, তারা বড়ো সাইকেলখোর হয়েছিলো! হাত নেড়ে, সিটে উঠে, স্টিয়ারিং না-ধরেই নানা কায়দায় রাজপথে সাইকেল চালাতে চালাতে তারা বড়ো কামেল হয়েছিলো!

আর আমি অলিতে-গলিতে ঘুরে এতো দিন পর ভাবতে বসি, সার্কাস-কুয়ার ভিতর সাইকেল চালাতে কি পূর্বপুরুষের পা দু’টি সহায়ক হবে না?


কৃষি সংবাদ
মফস্বল সংবাদদাতা প্রেরিত

মরিচের চাষ বড়ো হয়েছে এবার...কলাচাষে অনেকেই সাফল্য এনেছে...ধানচাষে কৃষকেরা খুশিবাসি হলো...বর্ষাও নেমেছে বড়ো অঝোর ধারায়...নতুন জাতের আম হয়েছিলো খুব...হাড়িভাঙ্গা আমের ফলন দিয়েছে মুনাফা...মাছচাষে সুনাম বেড়েছে!

এতোসব খবরের পাশে আরো যে-খবর: তুমিও পুষ্পবতী হলে! এ-খবর আমাকে বড়ো ঘরবাদী করে, বড়ো বংশবাদী করে!


কবিবংশ
২য় ও সর্বশেষ কুলজি

সেই কবে ভাববশে ভুলিয়াছি ধাম, বিপ্রদাশ পিপিলাই ধরিয়াছি নাম। জয়দেব হয়ে রচি গোবিন্দের গীত, ছিটিয়েছি পুষ্পঢেউ কামের কিরিচ। রচিয়াছি চম্পুকাব্য কোনো এক কালে, বন্দনা করেছি কতো আনে আর বানে। আমিও শ্রীহট্টে জন্মে রাধারূপ ধরি, কবেই ছেড়েছি বাড়ি শব্দ শব্দ জপি। জৈনত্মা পাহাড়ে ইরম দেখিয়াছি রূপ, বামেতে বন্ধুবাড়ি ডানেতে অসুখ। তবুও আলোর ডাক তবুও স্বপন, শ্রীহট্টে জন্মিয়া ভ্রমি বিসত্মীর্ণ ভুবন। রচিতে প্রেমের শ্লোক তুচ্ছ করি কাম, বলেছি সহস্র বার নারীকে প্রণাম। জমিয়েছি দূরবাসে একজন্ম ঋণ, অকূল পাথারে ভাসি দলহারা মীন। সন্ধ্যাভাষা ভুলি নাই গুহ্য অন্তমিল, আমারও রক্তে ছোটে চর্যার হরিণ।

মোনাজাত : তুমি পুত্র কবিবংশের লোক...ধরিও বংশের খুঁটি―জন্মভিটা যেন আর না থাকে বিরান। তোমার তরিকা যেন সত্য হয় প্রেম―দ্বিধাহীন করে যেও বংশের বয়ান...পুত্র তুমি, পিতা তুমি, তুমি বংশের মান―তোমাকে বলি, জানাই সেলাম!


মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।