মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৪

সজল সমুদ্র


সজল সমুদ্র বিরচিত "ডালিম যেভাবে ফোটে"-পাণ্ডুলিপিটি বই আকারে প্রকাশিত হবে ২০১৪ ইং বর্ষের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। বইটির প্রকাশনায়ঃ চিত্রকল্প প্রকাশনী এবং প্রচ্ছদ করেছেন মোস্তাফিজ কারিগর। বইটির সম্বন্ধে জানাতেই প্রকাশিতব্য পাণ্ডুলিপির মধ্যথেকে বেশ কয়েকটি কবিতা নিয়ে কার্তুজের এবারের রাউন্ড "পাণ্ডুলিপি সমাচার ২০১৪"

- ডালিম যেভাবে ফোটে -



মূক

সমস্ত বাগান ঘুরে দেখা হলো নাকফুল কোথাও ফোটে নি।

বোকা বলবে তাই, তোমার বারান্দার টবও চুরমার করেছি;
মিলেছে সামান্যই ঝুরঝুর মাটি; যা মানায় নতুন কবরে...
তবে কী, পাঠ্যগ্রন্থের ভুলে ‘গাছে গাছে ফুল ফুটে’ ওঠে?

বলো উটপাখি, কবে, কোথায় হারিয়েছো ডানা; তবু―
অজস্র ধূলিঝড়, এতটা নিরুত্তর কীভাবে পার হয়ে এলে!


হারানো রাস্তার পারাপার


আমাদের পরও থেকে যাবে এই চরাচর; জখম চিহ্নের মতো কিছু চুম্বন
চিরকাল সাক্ষ্য দেবে; কে কার ছিলাম আমরা। কতদিন। একটি মৃতনদীর দিকে
কীভাবে ঘুরে গেছে আমাদের জলকেলি। দূরে, কোথাও আলোর করুণারেখা জ্বলে উঠবে।
গম্বুজের চূড়ায় বসে একটি দোয়েল একা ভেবে যাবে তার পূর্বপুরুষের কথা।

...পারাপার। ধু ধু এই যাত্রা। হয়তো।

২.
সম্পূর্ণ সরিষার ক্ষেতে একা যে বাদামগাছ, তারই কথা ভাবি।
তোমাদের কোনো গ্রন্থেই যার জীবনী কোনদিন স্থান পাবে না।
বনভোজনের নামে যত ছবি, উন্মাদনা―তার সব সরিষাফুলের।
তোমাদের আফসোস, তোমাদের স্মৃতি-বিস্মৃতি জুড়ে তার কোনো চিহ্ন থাকবে না।
তবু উপলক্ষ্যহীন, শুশ্রূষাহীন সে দাঁড়িয়ে থাকলো, নির্ভার।
অপমৃত্যু যতদিন না-খোলে তার দ্বার...

অনর্থ সমস্ত গল্পের একদিন জীবনী বেরুবে...

৩.
মনে হয় সুড়ঙ্গ এক, দাঁড়াই। কীটের হাততালি আছে, দেখা যাচ্ছে পতঙ্গদেরও।
আলাপ জমাতে গভীর কোনো গর্ত থেকে উঠে আসছে সেইসব মার্বল্ড বিড়াল;
যাদের বিলুপ্ত ভেবেছি।

তোমার গোপন হাসি ছড়িয়ে আছে এত দূর-দিশাহীন...

৪.
ঐদিকে পড়ে আছে লোকালয়-খেকো বন; তারা রপ্ত করেছে অতিবিবাহিতদের খুনসুটি;
সবুজ পত্রালির ফাঁকে আর কোনো নৈঃশব্দ্য দেখি না।

এখানে শেষরাত্রির সাথে আবছায়া নিয়ে অনর্গল কথা বলা যায়;
প্ল্যানোটোরিয়াম ঘুরে এসে মনে হয়- শীত এক পরিম্লান ঋতু,
যার অনড় কুয়াশা আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে অনির্দিষ্টকাল;
আর নির্দ্বিধায় জড়িয়ে ধরতে পারছি না, পরস্পর...

কালো পিঁপড়েদের মতো এখানেও, ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ছে অপরাপর...

৫.
দু’ছত্র লেখার পরে ট্রেন এসে হুইসেল বাজায়;

আমার কাটা পড়বার দৃশ্য, ছিটকে পড়া হাতের আঙুল, যা তুমি কুড়িয়ে নিয়েছো―
অথবা নাও নি যা কিছু; ভেস্তে যাওয়া সেইসব কথার কারিকা, হাড়, কররেখা―
খণ্ড খণ্ড মনে পড়ে যায়...

রেললাইন এত দূরে―তবু, স্বপ্নের ভেতরে আর লিখতে পারি না।

৬.
পৃথিবীকে, তোমার দিকে হেলে পড়া আশ্চর্য কোনো ল্যামপোস্ট মনে হয়।
এই এখন যেমন; ভোর-ভোর, তোমাকে ডেকে তুলছে কানাডার সকাল!
আর, মাথাভর্তি মুখরতা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছি, এদিকে।

শান্ত, চুপচাপ একটা লাটিম শুধু দুটো বালিশের মাঝখানে ঘুরছে...


মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।