মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৪

আশরাফ শিশির


আশরাফ শিশির বিরচিত "কোন কোন বৃষ্টি কাউকে ভেজায় না"-পাণ্ডুলিপিটি বই আকারে প্রকাশিত হবে ২০১৪ ইং বর্ষের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। বইটির প্রকাশনায়ঃ প্রতিভূ  এবং প্রচ্ছদঃ আশরাফ শিশির। বইটির সম্বন্ধে জানাতেই প্রকাশিতব্য পাণ্ডুলিপির মধ্যথেকে বেশ কয়েকটি কবিতা নিয়ে কার্তুজের এবারের রাউন্ড "পাণ্ডুলিপি সমাচার ২০১৪"

- কোন কোন বৃষ্টি কাউকে ভেজায় না -



ঈশ্বর রুটিটি ভাঙলেন, রুটিটি ঈশ্বরকে ভাঙল।

একজন পাঠকের কাছে কবিতা পড়ে থাকতে চায়
তার থাকবার জায়গার কোন এক ধুলোমাখা টেবিলে
অথবা ঘরের এক কোণে অবহেলায় ; তবু থাকতে চায়
সে চায় কেউ তাকে পড়ুক পবিত্র গ্রন্থের মত করে
কেউ তাকে উচ্চারণ করুক বুলেটের সামনে বুক রেখে
কেউ তাকে উচ্চারণ করুক ভালবাসতে বাসতে
শিশুর জন্মের প্রথম ক্ষণেই ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার অগ্রাহ্য করে
কেউ তাকে উচ্চারণ করুক বেঁচে থাকার শেষ সম্বল ভেবে
কবিতা উচ্চারিত হতে চায় প্রেমিকার অস্ফুট ঠোঁটে বারংবার
এটুকু না হলে, কবিতা বেমালুম মরে যায়
প্রেসের কালো অক্ষরগুলো কালের বিবর্তনে মরিচিকার মত হয়ে ওঠে লাল
গুম হয়ে যাওয়া গল্পের মত পান্ডুলিপি খুন হয়ে গেলে কারোই নজর পড়ে না ....
তোমার খুব কাছে আমার কবিতার কোন জায়গা হয়নি
গত এক শতাব্দী ধরে আমার কবিতা কেউ পড়ে না .....


অপয়া

শহরের ব্যস্ততম দিন আমাকে রাত্রীর মুখোমুখি করে দেয়
আমি আয়োজিত হই বিভাজিত হতে হতে
আর দেখি মুখস্ত আলোর ভেতর দিয়ে ভুলে যাওয়া অন্ধকার
সার্কাসের জোকারের মত ক্যালেন্ডারের পাতায় দিন-তারিখের ব্যাপক গরমিল
মার্তৃগর্ভের ভেতরে ঢুকে পড়ছে নার্সের হাত
আর আমি হয়ে উঠছি নার্সিসাস
গর্ভফুলের ভেতর দিয়ে ফুটে উঠছি আমি
মাকাল ফল
জলের ভেতরে থাকতে থাকতে আমার গভীর নিদ্রায়
কে তুমি বের করে আনো আমাকেই
তার প্রতিবাদে চিৎকার দিতেই কে তুমি দেখালে আমায় প্রথম আলো !
সেই থেকে মৃতবৎ বেঁচে আছি .....
সময়কে আঁটকে রাখতে পারি না
ভয়ংকর অবিশ্বাসের মাঝেও মানুষকে ভালবেসে ফেলি
মধ্যবিত্তের মধ্য বৃত্তে ঘুরপাক খেতে খেতে
আমি স্বয়ং পৃথিবীর মতই হয়েছি ঘূর্ণায়মান
তারপর
বারোটা এক মিনিটের কাঁটা চিৎকার দিয়ে বলে উঠলে “বয়েস কত হইল?”
আয়োজন শুরু হওয়ার আগেই আমার বয়স বেড়ে যায়
আমি অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুর আরেকটু নিকটবর্তী হই
জীবন হচ্ছে তাই যা জন্ম এবং মৃত্যুর মাঝে সীমারেখা টেনে দেয় !
তাই কেক কাটার আগেই নিজেকে কেটে ফেলি
আর ভেতরে ভেতরে রক্তাক্ত হতে হতে তোমার প্রায় মুছে যাওয়া কন্ঠস্বর শুনতে পাই
“হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ ! হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ !!”
আমার জন্মদিনে শুধু তোমাকে দেখি না ...........


অনুসন্ধান

গুগলে কয়েক হাজার বার সার্চ দিয়েও তোমাকে খুঁজে পাওয়া গেল না
হয়ত নিজেকে লুকিয়ে রেখে তুমি নিজের কাছেই হতে চেয়েছো মহিমান্বিত
অথবা চাওনি আমাদের আর কোনদিন দেখা হোক
তোমার আগের নাম্বারটা বোধ হয় আর চালু নেই
হয়ত আমাকে এড়াতেই ফোনটা বদলে ফেলেছো তুমি
নিজেকে কি বদলাতে পেরেছো?
জানি পৃথিবী যত গোলাকারই হোক না কেন
এ শহর যত ছোটই হোক না কেন
আমরা একই পথে হেঁটে গেলেও
আমাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ক্ষীণ
যান্ত্রিক ব্যস্ততায় ট্র্যাফিক জ্যামের নাটকীয়তায়
তুমি আমাকে দেখলে - ডাকলে না
আমি তোমাকে দেখলাম - ডাকার সাহস পেলাম না
অথবা ডাকলেও
মানুষগুলো সব একসাথে চিৎকার করে উঠলো
গাড়িগুলো এক সাথে হর্ণ দিয়ে উঠলো
আমি তোমাকে ডেকেছিলাম তুমি জানলে না
নীরব ঘাতকের মত ছোট্ট একটা মন খারাপ
দীর্ঘশ্বাসের ডানায় শহরের শেষ ট্রেনে দুরে কোথাও
যাবে বলে মাঝপথে ফিরে এসেছিল
ভুল রুটের লোকাল বাসে
কে জানতো আবারও আমি
ফিরে এসে তোমার দরোজায়
তৃতীয়বার নক করতে গিয়েও
সোজা রাস্তায় নেমে হয়ে যাবো শহরের নতুন বিপ্লবী
কারওয়ানবাজারের কাঁচা তরকারির আড়ত পার হয়ে
বেশ্যাপট্টির লাইন বরাবর
মাঝরাতেও কেমন ক্রসিংয়ে সিগন্যাল পড়ে গেলে
যানজটমুক্ত আকাশ দিয়ে ব্যর্থ কোন বৈমানিকের উড়োজাহাজ উড়ে যায়
আরব দেশ হয়ে মার্কিন মুল্লুকে
আড়তের মাঝখানে
ধরা পড়া মুরগী চোরকে আড়াআড়িভাবে বেঁধে নিয়ে
অকস্মাৎ কেউ কেউ ঘেউ ঘেউ করে উঠলে
মহাসড়কে ট্রাক এসে থামে সস্তা শ্রমের বাজারে
ডালি আর কোদাল কাঁধে নিয়ে উঠে পড়ে কতিপয় শ্রমজীবী
নি:সঙ্গ মানুষের জন্য এমন রাতে
এ শহরে দু'একটা রিক্সা ছাড়া আর কোন বন্ধু থাকে না
টিভিতে টক শো শেষ করে ঘরে ফেরে মুখস্ত সুশীল
ছাপাছাপির পর খবরের কাগজগুলো রওনা দেয়
গ্রাম আর ছোট্ট শহরে ছড়িয়ে দিতে বানোয়াট তথ্য বিভ্রাট
শাটারস্পিড বাড়িয়ে দিলে ফ্লাইওভারে ধরা পড়ে অশরীরী কিছু আলো
কারো কারো বিছানায় কয়েকবার হয়ে যায়
কেউ কেউ ছুঁয়েও দেখে না
কোন একদিন তুমি আমাকে খোঁজ করবে তাই
আমার ফোন নাম্বারটা আমি আজও বদলাইনি
শুধু নিজেকে বদলে ফেলেছি
বিশ্বাস কর
এ শহরে দু'একটা রিক্সা ছাড়া আমার আর কোন বন্ধু নেই
একমাত্র তোমার সাথেই আমার এক জনমের শত্রুতা
প্রিয়তমা ............


প্রিয় উষ্ণতা

এই শীতে আমি তোমার ওম হতে চাই
আগামী গৃষ্মে হতে পারবো না ততটা শীতল
বিগত বর্ষায় ঝরেছি বহুবার তোমাকে ভিজিয়ে দিতে
আগামী বর্ষায় হতে পারবো না এতটা তরল
শরৎ এর আকাশে ছিল যেটুকু নীল
তা তো আমারই বেদনা থেকে হয়েছিল সংকলিত
এবার শরৎবাবুর সাথে আমিও চলে যাবো পার্বতীপুর
হেমন্তে নবান্নে উৎসবে হয়ে কৃষানীর গোপন সংহার
ফুল হয়ে ফুটে কোন বিনীত বসন্তে
এবার আর বাড়াবো না বাগানের জৌলুস
ঝরাফুল ভালবেসে এবার না হয়
তোমাকেই ভালবাসা যেতে পারে
আবহাওয়া দিয়েছে পূর্বাভাস
এ শহরে শীত নামবে কনকনে
ডাইনী বুড়ির মত বসিয়ে দেবে দাঁত
তবুও কমলাপুরে, কারওয়ানবাজারে যে কোন বস্তিজুড়ে
খোলা আকাশের নীচে
ডাকাতের মত ঢুকে পড়বে শীত
আর শীতনিদ্রায় যেতে যেতে গোটা উত্তরবঙ্গ
যেন সাগ্রহে ডেকে নেবে ভয়াবহ মঙ্গা
গরম পোশাকে তোমাকে মানাবে না বাংলাদেশ
ন্যাংটো যিশুর মত শীতের ক্রুশে বিঁধে আছে অযুত হাভাতে শিশু
শুকনো পাতায় জ্বালিয়ে আগুন
কে কবে কতটুকু পেয়েছিল কতখানি উষ্ণতা
ভিজে যেতে যেতে মরে যেতে যেতে পুড়ে যেতে যেতে
এই শীতে আমি তোমার ওম হতে চাই
আমার গভীরে আসো .......


মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।