মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৪

জিনাত জাহান খান


জিনাত জাহান খান বিরচিত "নীল কাছিমের দ্বীপ"-পাণ্ডুলিপিটি বই আকারে প্রকাশিত হবে ২০১৪ ইং বর্ষের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। বইটির প্রকাশনায়ঃ শুদ্ধস্বর এবং প্রচ্ছদ করেছেন রাজীব রাজু। বইটির সম্বন্ধে জানাতেই প্রকাশিতব্য পাণ্ডুলিপির মধ্যথেকে বেশ কয়েকটি কবিতা নিয়ে কার্তুজের এবারের রাউন্ড "পাণ্ডুলিপি সমাচার ২০১৪"

- নীল কাছিমের দ্বীপ -



লবণশিল্প

জলের শরীর ভেঙে ভেঙে অতল থেকে উঠে আসে বর্ণিল এক মাছ। সূর্যের চোখে চোখ রেখে, রোদের আলোয় জড়িয়ে নেয় গভীর চুম্বনের মতো।

ফসলের ঘ্রাণ পেতে মাটির কাছে আসে, লাফিয়ে লাফিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুকে মেনে নিয়ে এঁকে যায়-গাছের ভেতর অন্য গাছের ছায়াদৃশ্য।

রুক্ষ মৃত্তিকার দেহে ঝেরে ফেলে সমস্ত রাত্রির মিঠেজল নোনাজলের শস্যবীজ পোঁতে বর্ণচোরা তৃষ্ণার জোনাকি।

লবণ-শিল্পের নেশা! এ-যেন খাঁচা-ভাঙা পলাতক পাখির হাওয়ায় হাওয়ায় ডানা মেলা আর মেঘেদের লুকোচুরি খেলা, আকাশ-মাঠ জুড়ে।

নির্জনতাকে গিলে উপকূলে তোলা ফেনিল আভায় দৃশ্য মুছে অদৃশ্য হয় রহস্যের প্রচ্ছন্ন গুহায়।


যে কোনো গন্ধই ঘ্রাণ

দাঁড়িয়ে একা, নিয়মহীন অবগাহনের সৃষ্টিছাড়া দেহবাস। সুখ-অসুখ, মাঝের সময় উবে যায় কর্পুরের মতো। জলের মাটি ভেদ করে প্রকাশ্যে যখন, নীলপদ্ম। সীমাহীন মুগ্ধ দৃষ্টিতে, বালিহাঁস, সমস্ত গন্ধকে ঘ্রাণ ভেবেই সুখ, জানায়। বিগলিত আবেগে নীলপদ্ম, দারুচিনি বনের সুগন্ধ পেতে খুলে দেয় নীলপাপড়ি কিছু। তবু নিপুণ ভঙ্গিকে বিষাদবীজ বপনে, বিগত রাতের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা চায় বালিহাঁস। উবে যাওয়া সময় আজ, নীলপদ্মের সবগুলো পাপড়ি।

প্রতিটি মাস্টারবেশনে বালিহাঁস মুখে পঁচা দ্রাক্ষার গন্ধ নিয়ে ঘোরে।


মৎস্যকন্যা ও সার্কাসবালক 

বাঘের চোখ বাঁধা লাল কাপড়ে, জোকারের কোলে চেপে নেমে আসে সার্কাস বালক। অথচ তখনও শনাক্ত হয়নি অজস্র স্বপ্নের জন্মদাতা। গোপনে ফুলে-ফেঁপে উঠছে, প্রণয়চুক্তির ঝরা কুসুম, নুয়ে পড়া ডাল। একঝাঁক বৃষ্টি ছড়িয়ে জলের ওপর নীলচোখ শৈবালচুলের অপরূপা মৎস্যকন্যাটি এলো। জ্যোৎস্না-বিভ্রমে মাতাল সার্কাসবালক। মসৃণ জলের তলায় খননের অন্ধলোভ, সবশেষে স্বপ্নস্নান, মৃত্যুর মুহূর্ত বসে থাকে মধ্যরাতে, সমুদ্র গর্জন!


ঋতুমতী প্রত্নবালিকা ও শীতের পাখিটি

শূন্যে ছুঁড়ে দেয়া দৃষ্টি বেয়ে নেমে আসে শীতের পাখিটি। শনাক্তকরণের সর্তক চোখ অগ্রাহ্য করেই, দৃষ্টিসীমার মাঝে শৌখিন পুরনো গন্ধের ভেতর।

জল না ছোঁয়া, প্রথম ঋতুমতী প্রত্নবালিকা ধূসর ধুলোতে পা ডুবিয়ে ডুবিয়ে ব্যক্তিগত গুন গুন গুন গুন...

জলাশয়ের ওপর বসে বসে বেদনালুপ্ত শীতের পাখি পালক আর শৌখিন ডানায় উড়িয়ে দেয় রহস্যশিকার।

বালিকাটিও তার রক্তসময় ভুলে যায়, দু হাতে তুলে আনে শ্যাওলায় মজা জলাশয়ের ঘ্রাণ।

ঋতুমতী প্রতœবালিকা যেন শীতের পাখিটি; মেতে ওঠে শিকার খেলায়। তার বেদনার ভার নিয়ে উড়ে যায় পাখি কোথাও কোনো পালক থাকে না...


মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।