সোমবার, ১ জুলাই, ২০১৩

সম্পাদকীয়


প্রতি শুক্রবার বিকেলে ৩.৩০ মিনিটে একটা ফোন আসতো, ফোনের ওপাশ থেকে বলতো- “সিপাহী আর কতক্ষণ বসায়ে রাখবা? সবাই চলে আসছে আর তোমরা(আমি আর সৌভিক দা’) এখনো আসলা না মিয়া!! তোমাদের এলাকায় কি এখনো ৩.০০ বাজে নাই নাকি!!!” কবিতা আশ্রমের আড্ডায় এসে এই ফোন যে করত তার প্রথম দিনের আড্ডায় আসার ঘটনাটা কখনোই ভুলে যাওয়া যাবে না।  সেদিন আড্ডা হচ্ছিল তিনজনে। আশ্রমের প্রথম আড্ডা। কেউ আসবে না ভেবেও স্থানের নাম উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম তারপর চলে গেলাম আড্ডায়। আড্ডা চলতে চলতে সন্ধ্যার দিকে একটা ছেলে ফোন দিয়ে আড্ডায় জয়েন করলো তারপর বলল আমাদের খুঁজে পাওয়ার কাহিনী। ও আগেই বলে রাখি আড্ডার ঘোষণা দিয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। তারপর ছেলেটা বলল যে ও আমাদের প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে খুজেছে ছবির হাটে, প্রত্যেকটা টঙ্গে গিয়ে সৌভিক দা’ সৌভিক দা’ বলে চিৎকার করেছিল, লোকজনদের ধরে ধরে জিজ্ঞেস করেছিল আমরা ছবির হাঁটের কোথায় আড্ডা দিচ্ছি। তারপর সেখানে না পেয়ে সে টিএসসি গিয়ে আবার চিৎকার শুরু করল তারপর ওর চিৎকার শুনে আমাদেরই পরিচিত কেউ একজন সৌভিক দা’র ফোন নম্বর দিয়ে দিয়েছিল। সেই ছেলেটির নাম রাশেদুল হাসান সিফাত, আমরা ওকে সিফাত বলেই ডাকতাম। প্রথম থেকেই ছেলেটা আশ্রমের একটা চরিত্রে পরিনত হয়ে গেলো। সিফাত বলতেই আমরা বুঝতাম অনেক জানাশোনা পড়ুয়া একটা ছেলে, হাসিখুশি, মৌজ মাস্তিতে ভরপুর একটা ছেলে। ওর কাছ থেকে কখনো হতাশ মার্কা কথা শুনিনি। অলয়েজ বি পজেটিভ।

সেই ছেলেটাই হুট করে জাগতিক আশ্রম থেকে ছুটি নিলো সেদিন! বাবা মায়ের সাথে কোথায় যেন যাচ্ছে বলে চলে গেলো... সেখানে গিয়ে চিঠি দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু চিঠি এলো না। চিঠি আসে না...

সিপাহী রেজা
সম্পাদক, কার্তুজ


মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।