সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৩

রত্নদীপা দে ঘোষ


একঘরে থাকা হয়নি কখনো 

দুপুরের নদীরা আকাশে উঠলে তুমি বলো একাত্তরের গল্প
সত্যি কথা বলতে কি, আমি কখনো ঘোড়া ছোটানো সমুদ্রের লালসাপ দেখিনি

তুমি সেই লালসাপের কথা বলো, জানুদেশে বিষ ছোবলের গল্প বলো...
আগুনের কথা, বিশাখার গুটিয়ে নেওয়া শিখার কথা বলো ...
তুমি স্টেনগান কাঁধে একদল মানুষবাগানের কথা বলো...

আমি তোমার মুখে শুনি কক্সবাজারের ঢেউ হাওয়া বিকেলের সূর্যমুখি
আমি গুনি তোমার কপালে তামাটে শস্য, ফোঁটা ফোঁটা পূর্বপুরুষ
অ্যাকাডেমির বায়ুমণ্ডল আমি প্রথম চিনি তোমার মুখেই
সারি সারি দোয়েলের গীতিকা ভাটিয়ালি রোমন্থন
তোমার মুখে প্রায়ই শুনি পাখিডাকা জানালার আত্মকথা

বলার মতো কিছুই থাকে না আমার
যেহেতু একাত্তরের সূচের ফলায় আমার নিজস্ব রক্তক্ষেত নেই
যেহেতু আমার গা থেকে খুলে নেওয়া হয়েছে অজস্র অনশন
যেহেতু আমার চোখে মুক্তিযুদ্ধের অবশিষ্ট কাশফুল লেগে নেই
যেহেতু ফেব্রুয়ারির পাতায় পাতায় আমি লিখিনি কোনো মর্মরধ্বনি
যেহেতু আমি ফিরে যাইনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চৌকাঠে
লাঠি ঠক ঠক সন্ধ্যেবেলায়...
সেহেতু ডালপালা বিষণ্ণ এলিয়ে থাকে আমার
সেহেতু কিশোরী নাকছাবিতে ঠোঁট ফুলিয়ে বসে থাকে অভিমানী দেশ
রোদের আঁচড় নীলকণ্ঠ পাখির শোক একদলা মাটির কিষাণ
সেহেতু আমার হাতের তালুতে বয়ে যায় বাউলের দু–দণ্ড নিঝুম একতারা...

একঘরে থাকা হয় না কোনদিন...
শোভাযাত্রায় ঝলমলে পাখি হতে পারি না একসঙ্গে
উচ্ছন্নের মতো একসঙ্গে হাসতে হাসতে হতে পারি না একবজ্ঞা ক্রিকেট...
দরজায় বৃষ্টি দাঁড়ালে একসংগে ঝাপসাও হতে পারি না

ঠিকানার দাগ ইতিউতি লেগে থাকে চাকার গায়ে...

বে’পাড়ার বাস্তুসাপ খেয়ে নিয়েছে আমার পতাকা...



মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।