প্রিয় প্রেয়সি, শাহবাগ তোমার শাহদান চায়
তোমাকে বললাম, শুনেছ ! কাল শাহবাগে মরেছে এক ছাত্র।
কাঁধে ছিল একব্যাগ বই, আর অযথা পোষ্টার কিছু। ব্যাগে নাকি
পাওয়া গ্যছে কৃষ্ণচূড়ার ডালিও কয় !
তুমি বোধ করি কম্পিউটারে গেমস-টেমস খেলছিলে।
আমাকে বললে ঘুরাতে ঘুরাতে ঘাড় -
বাইশ বছর বয়সটাই ভয়ংকর ; দ্যাখো প্রেমিকার সঙ্গে কী বাঁধিয়েছে !
নয়ত ছুটে গেছে একমাত্র টিউশনি, হাঁটা-চলা।
আমি বলতে যাচ্ছিলাম কিছু একটা,তারপর থেমে গিয়ে ভাবলাম-
হলেও হতে পারে, বাইশ বয়সটাই ভয়ংকর!
আমি তোমাকে বললাম, শাহবাগে কাল মরেছে এক বুড়ো শিক্ষক।
দোহাতি ব্যাগে ভরা ছিল লিফলেট।
তুমি কিছুক্ষন ভ্রু কুঁচকালে, তারপর বললে, পৃথিবী আর সইতে
পারছিল না দুর্বহ ভার। বৃদ্ধেরা মরার জন্যই জন্মায়।
আমি তারপর বলি, কাল শাহবাগে মরেছে এক তরুন সৈনিক।
তুমি কিছুক্ষন তাচ্ছিল্যের হাঁসি হাসলে ; তারপরে বললে -
সমরে ও সঙ্গমে ধন্য শনক সৈনিক।
মরনে তার প্রবল নিয়ত।
আমি ভেবে ভেবে দেখি, তোমার কথা ঠিকও হতে পারে।
তারপরেও আমতা করে বলি, তরুন সৈনিক একই সাথে ছিল কবিও।
এবার তুমি বিরক্ত কিছুটা ; বললে কবির উপর থাকে কবিতার আছর।
কবিতা ও বিপ্লব মানুষকে মারে।
আমি আবার বললাম, কাল সেখানে মরেছে এক নাস্তিক।
ঈশ্বর তাকে পছন্দ করেননি, তুমি বলে উঠলে জোরে, তোমার
মুখ সন্ত্রস্ত, যাতে ঈশ্বর আবার কুপিত না হয়ে বসেন তোমার পরে !
আমি কিছুটা রাগি, তারপর মনে মনে বলি, বিপ্লব বুঝি ঘরে বসে হয় !
এবার আমি জোরে বলে উঠি, কাল শাহবাগে মরেছি আমি।
গলা কেশে আবার বলে উঠি, কাল শাহবাগে মরেছি আমি।
তুমি নিরুত্তাপ, কি-বোর্ড টিপতে টিপতে বলো -
তুমি তো মরবেই, রোমান্টিক বিপ্লবীরা মরে।
আমি ছোট করে তোমার কাছে দাড়াই এইবার। যাতে তুমি
শুঁকতে পার আমার ও বিপ্লবের ঘ্রান। তারপর বলি অনুচ্চ স্বরে -
আজ শাহবাগে মরেছ তুমি।
এইবার তুমি বিস্মিত, কি-বোর্ড অন্ধ করে আমার দিকে ঘোর।
মানে? কোথায়? কিভাবে?
তোমার কথা শেষ হওয়ার আগেই বেনামি রক্তে ভিজে যায় কি-বোর্ড।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।