সমবেত ঘুমের বন্দনা
বালিশের কাছে তুমি কুঁকড়ে থাকো। তোমার মাথা কালো রেহালে তোলার মতো একাকী শুয়ে থাকতে থাকতে তোমাকে জড় শরীর লাগে। তোমার ঘ্রাণের জন্য আমি বইয়ের পাতা উল্টাই। একেকটা শব্দ মৃত স্বরাজ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতো একপেশে জায়গা করে নেয়, ঘুমের গঠনতন্ত্র, আমাদের উদ্দাম রতি পার্বনের দিকবিদিক সংশোধন করে দেয়।
কেউ কেউ জেগে থেকে নিজেকে অস্তিত্বহীন প্রমান করে। আইন শৃংখলা বাহিনীর মতো অকেজো, গোলালুর মতো। তোমার ডান পাশে হানাহানি করে আমার বাম পাশে শান্তির মোম মিছিল করে। মাজারের সামনে দোকানে মোমের দাম বেড়ে যায় ঐ বিশ্রী খাদেমটার মতো।
আমি চোখে সাবান ঘষে তিনপ্রহর ধবধবে জেগে থাকি। কবিতা বানাই রুটি ভাজি ডিম সিদ্ধ দেই। চেনা নারীর শরীর মাপি লুকিয়ে আবডালে, আমি সারাদিন প্রগতির মুখোশ কিনে বেড়াই।
একটা সুরঙ্গ খঁজতে খুঁজতে পোশাক খুলে ফেলা খুব আটপৌরে। উপমন্ত্রী পারে, নগর কমিটি পারে, মাতাল দুশ্চরিত্র কবিও পারে কবিতার ঝুনঝুনি বাজিয়ে তবু আফ্রিকার হীরের টুকরো আমাদের দূরের থেকে যায়।
তুমি বেশুমার বেহুলা হয়ে ঘুমাও।
সব্বাই যখন কাপড় চোপড় খুলে ঘুমাচ্ছে। এসো লজ্জার ঘটি বাটি উনুন দেরাজ বন্দী করে আমরাও ঘুমু করি।
মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।