শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৩

হাসান মসফিক


ভাঙা চূর্ণগুলো বাজুক প্রাণে !

ভাঙছে। কী যেন ভাঙছে, কেন যেন ভাঙছে, কিভাবে যেন ভাঙছে ! ভাঙছে, শুধু ভাঙছে। এক কালে ছিলাম, ভাঙার কারিগর ! ছোট হাঁড়ি, কলসি, দরকারি-অদরকারি কাঁচের জিনিস ভেঙেছি। আঙুল ভেঙেছি; অগোচরে হাত-পা ভেঙেছি। ভাঙা জিনিস - যা আর ভাঙার দরকার ছিলোনা; তাও ভেঙেছি ! ছোট-বড় গাছের ডাল ভেঙেছি, অনায়াসে। অবশেষে জেনেছি গাছেরও প্রাণ আছে। তবু ভেঙেছি ! আগে না জেনে ভেঙেছি; পরে জেনে ভেঙেছি ! আনন্দে ভেঙেছি, পরে নিরানন্দে ভেঙেছি। এক রাতে চুপিসারে বাঁধ ভেঙেছি। একদিন; দিন দুপুরে পানি ভেঙেছি। তারপর মড়মড় করে রোদেলা দুপুর ভেঙেছি। জন্মের পর থেকে নিয়ম করে নিয়ম ভেঙেছি। সাহস করে একবার নিষেধ ভেঙেছি। ঘৃণায় একদিন নিজের প্রতিবিম্ব ভেঙেছি। তারপর পিছু ফেরা ভেঙেছি। কারো হাতের কাঁচের চুড়ি ভাঙতে ভাঙতে একদিন সম্পর্কের জোড়া তালি ভেঙেছি। তারপর আগাপাশতলা ভেঙেছি। না ভেবে বন্ধুত্ব ভেঙেছি। আস্তে আস্তে নিরাপদ জায়গা গুলো ভেঙেছি। এক রাতে ড্যাং ড্যাং করে নিজের অস্তিত্ব ভেঙেছি। শীতলতা গুলো চুরি করে এনে ভেঙেছি। আশাগুলো দূরে নিয়ে গিয়ে নিরাপদে ভেঙেছি। ভুল করে ভুল ভেঙেছি। একদিন ভাঙাকে ভেঙেছি ! এখন স্বপ্নে দেখছি - সমস্ত ভাঙা চূর্ণ গুলো হিসেব করে ভাংছি; লাফ দিয়ে জীবন ভাঙছি !



মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।