বেসরকারি শিক্ষক আজিজুর রহমানের প্রতি...
প্রিয় সুধীজন এখানে আসুন;
চা অথবা একটা সিগারেট চলবে নাকি,
তাপ নিয়ন্ত্রক রুম থেকে এই জামালপুরের রৌদ্র পল্লীতে একটু কষ্ট হবে।
এখানে নির্লিপ্ত আছে একজন কারিগর, একজন বৃদ্ধ পিতা;
দৈন্যতার শৃঙ্খলে থকথকে দুটি পায়ের একজন আজিজুর রহমান।
গতকাল যিনি ক্লান্ত শরীর টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছিলেন,
উল্লসিত আজ "বেসরকারি" ইস্কুল শিক্ষক, পুরাতন লাশ আগুনের মত জ্বলছে।
দারুন রোদে, চৈত্রের সহসা দুপুর ক্ষমা করেনি,
একজন আজিজুর রহমান ছাড়া আজ সবই সরকারী।
এখনো বিছানো আছে পুরাতন একটি চাদর,
একটি পানির বোতল আর যুদ্ধ যেখানে সহযাত্রী
নিকোটিনের মতই প্রিয় একটি চামড়ার ব্যাগ।
সহযোদ্ধারা গুটিয়ে নেয়নি "বেসরকারি" শিক্ষক আজিজুর রহমানকে।
হাজার অগ্নিদৃষ্টিতে বারে বারে জ্বলে উঠছেন,
লাল চায়ের নিখুঁত চুমুকে, একজন মুক্তিযোদ্ধা বারে বার ফিরে গেছেন অস্ত্রের নেশায়।
সরকারের "দালাল-হিজড়া সমিতি" লাঠির গায়ে গণতান্ত্রিক বিষে বারংবার বিদ্ধ করেছে;
নেশাতুর লাশ কাটা ঘড়ের শূন্য আলোতে যেভাবে তাকিয়ে থাকে একটি লাশ,
তিনি শাহবাগের মোড়ে তখনো তাকিয়ে ছিলেন অবিনত ফুলের চোখে।
একটি কৃষ্ণচূড়া লজ্জায় মায়ের জরায়ু আঁকড়ে নিঃশব্দে কেঁদেছিল;
মোটা ফ্রেমের কালো চশমা ঝুল বারান্দার আঁকড়ে রেখেছিল
প্রাচীন সাদা কাপড়ের এক কারিগরকে।
আপনারা কি একটু বিব্রত বোধ করছেন ?
জানেন, আমরা এখন নির্লজ্জতার শেষ অংশে বসে অপেক্ষা করছি...
প্রিয় সুধীজন, এবার ফিরে যান তাপ-নিয়ন্ত্রক ঘরে ,শুনেছি ভোর রাতে ঘুম গভীর হয়।
আমি জেগে থাকবো কাপুরুষ সন্তানদের দায়ভারে, সমসাময়িক গণহত্যায়।
মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।