প্রেম বৃত্তান্ত
ফাল্গুনের ভরা কলস দোচালার টিনের ঘরে। জানালায় আঁচড়ায় রাত। আমি ও ভিটেয় চাইলেই তোমার নির্নিমেষ দৃষ্টি ধক করে ঢুকে যায় বুকে। তুমি ঝুলে থাকো ডালে। কোঁকড়ানো কালচে চুলে খলবলায় বাতাস। শিয়ালের হুটোপুটি দাঁতের কামড়ে মাখা পা-দূর থেকে যেন আলতার সম্মোহনী কারুকাজ। প্রিয় বলেই দড়ির দাগকে লাগে গলার কলঙ্ক, দৃষ্টিতে খুঁজে পাই উপচানো আমন্ত্রণ-আমার ছলকে উঠে কথা! টের পাই এক ষোড়শীকে ভালোবাসি-আজ দুই যুগ। বাপটা কলেরায় গেলো, মা-ও একদিন শেখের বাড়ির বউ। খালি তুমিই ভিটে কামড়ে থাকলে পড়ে ঝুলে মরবে বলে। অথচ আমার বাড়ির কাঠগুলোয় অভিজাত লেখা ছিল, বাপ দাদার নাম-ডাক ছিল......শুধু যৌবনে দুর্লভ ছিল সাহস। আজকাল উঠানে ছড়ানো ছিটানো শৈশব-পড়ে থাকে কৈশোর যৌবনের শামুক গুগলি-আমি ফিরেও চাই না। দিন মানেই তো বুকের ঘরের এক বিষাক্ত অপেক্ষা। বড্ড কষ্ট। দু’একদিন রোদ অসহ্য হয়ে উঠলে দাড়িয়াবান্ধার মাঠ পেরিয়ে মানকচুর জংলায় যেয়ে বসি। শান্তি বলতে এইটুকু। বা-পাশেই অপার্থিব কবরগুলো পাপোশের মতো থাকে পড়ে। তুমি ঝোলার দুই চাঁদ পরে কে যেন এখানেই শেয়ালগুলোকে উল্টে পুঁতে রেখেছিল। সত্যি বলছি- এখনো কানে বাজে পুরো গ্রামের ঝিম মেরে যাওয়া। তুমি বদলাও নি তাই ওরকম ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসো, অথচ আমার তো বয়স হলো-হাসির পাল্লায় পারবো কিভাবে? প্রেমের রাতগুলোয় তুমি কাছে আসলে নিঃসঙ্গ ডালটিকে লাগে তারার হাঁটে আমাদের একমাত্র সাক্ষী। অথচ লোকে অপয়া বলে কি শাপশাপান্তই না করে। শেষবার ও ডালে কোপ মেরে যে করিম খুড়ো মুখে রক্ত উঠে মরেছিল!
মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।