খাঁটি সরিষার তেলের ঘুম
উপস্থিত দর্শকের সারিতে বসা ঐ মেয়েটা, হ্যা, ঐ তো ঐ মেয়েটা!
এই মেয়ে!
আজ তোমার কনিষ্ঠা থেকে রোদ ঝরেছে, আজ রোদের রঙ নীল।
আজ তোমার কনিষ্ঠা থেকে রোদ ঝরেছে, আজ রোদের রঙ নীল।
আজ ফড়িঙয়েরা তোমার উঠোনে নেমে আসতেই খরগোশ,
খরগোশগুলো দলে দলে সড়কগুলোতে নেমে আসতেই
শিশির ভেজা সবুজ ঘাসে ভরে উঠেছে, আজ গাড়ি চলাচল বন্ধ।
আজ ডায়াবেটিস রোগীরা খালি পায়ে হাঁটছে,
আর ঘাসফুলে হাত ছোঁয়ালেই বলে দিচ্ছে, তোমাদের প্রত্যেকের রক্তে
চিনির পরিমান পরিমিত আর রক্তের চাপ স্বাভাবিক,
তোমাদের হার্টে কোন কান্না জমেনি, শিরা-উপশিরায় কোন ক্লেদ নেই।
আজ জলাশয়ে জলের তলে মাছেরা একে অপরের শরীরে
আলপনা এঁকে দিচ্ছে, জলের তলে নতুন মাছের তোলপাড়।
আজ উর্ধ্ব গগণের চিলের ঝাঁক তোমার ঘরের দাওয়ায় নেমে এসে
মুখভর্তি পান চিবাচ্ছে, আর শিশুরা হাততালি দিয়ে উঠলেই
মাথার উপর ঘুড়ি হয়ে উড়ছে।
ঘরে ঘরে মেয়েরা বুকশেলফে হাত দিলেই বইয়ের কাগজগুলো
স্বর্ণ-অলঙকার আর কালো কালো অক্ষরগুলো এক টাকার কয়েন হয়ে
ঝনঝন করে পড়ছে টিনের চালে।
পথশিশুরা জুয়েলারিতে ঢুকে রত্ন-অলঙকারে হাত দিতেই চাঁদের মাটি,
আর একমুঠ মাটি রাজউকে জমা দিলেই তাৎক্ষণিক বরাদ্ধ দিয়ে
দিয়েছে প্রত্যেকের জন্য একটি বাড়ি, গাড়ি আর পৃথিবী ঘুরে দেখার
যাবতীয় খরচপাতিসহ প্রয়োজনীয় অনুমতির কাগজপত্র।
ডাস্টবিনের আর্বজনার স্তুপগুলো কাছের জলাশয়গুলোতে নেমে
পদ্মফুল হয়ে ফুটে আছে,
আর আজই যারা ঋতুবতী হয়ে উঠলো, দিনটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য
মেয়েগুলো তাদের প্রত্যেকের প্রিয় রঙের
ওড়নাটি ঝুলিয়ে দিয়েছে আবর্জনাস্তুপের ফাঁকা হয়ে যাওয়া জায়গাগুলোতে।
সরকারী দপ্তরগুলোতে জনগণের সেবকগণ কমরেড লেলিন, কমরেড
মাও জে দঙ আর কমরেড সিরাজ শিকদারের নাম নিয়ে অফিস করেছে,
আজ কোথাও ঘুষের লেনদেন হয়নি,
আজ দূর্ণীতি করার সুযোগ মেলেনি কোন।
আমাদের মহাপ্রভুদের অপ্রয়োজনীয় ও অন্যায্য সম্পদগুলো কেড়ে নিয়েছে
আমাদের সরকার বাহাদুর
আর আমাদের দক্ষ জনশক্তিকে কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করে দিয়েছে।
আজ আমাদের মন্ত্রিদের গায়ে টি-শার্ট, টি-শার্টের বুকে
আর্নেস্তো চে’গুয়েভারার ছবি, মন্ত্রিগণ রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে
পূর্ণদিবস একটানা ভরাট কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি করে চলেছেন,
আর আমাদের মুগ্ধ নাগরিকগণ তাদের সঞ্চিত অর্থ-রত্নালোঙকার
ছুঁড়ে দিয়ে যাচ্ছে তাদের পদতলে আর ধারণা করা যাচ্ছে
দিনশেষে এই জমা হওয়া অর্থ-রত্ন অলঙকারের স্তুপ থেকেই পরিশোধ
করা সম্ভব হবে তাবৎ বৈদেশিক ঋণ।
মাননীয়া উপস্থাপিকা,
আপনার হাসি থেকে ঝরছে ফুল, এই ফুলের চেহারা-ছবি মেঘ,
এই ফুলের সুবাসের নাম বৃষ্টি আর এই ফুলের রঙ বাতাস,
আজ আমাদের আবহাওয়া সতর্কবার্তা জানিয়ে দিয়েছে,
আমাদের এই জনপদ কোন কালেই ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে নেই,
আজ আমি নিরাপদে ঘরে ফিরে যাবো আর নাকে ঝুলিয়ে দেবো
খাঁটি সরিষার তেলের ঘুম।
০৮.০৯.২০১২, ঢাকা।
মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।