জিজ্ঞাসাঃ আপনার পরিচয়টা যদি শুরুতেই জেনে নেওয়া যেত তবে ভালোই হয়, মানে জানতে চাচ্ছিলাম আপনার নাম, পেশা, নিজেকে নিয়ে নিজের মন্তব্য এবং নিজেকে আপনি কীভাবে ভাবতে ভালোবাসেন?
ভাষ্যঃ আমার নাম ফাতেমা-তুজ-জোহরা। অর্থনীতিতে মাস্টার্স করছি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। খোলামেলা এবং সাংস্কৃতিক মানসিকতার আমি। নিজেকে একজন বাঙালি হিসেবে ভাবতেই ভালোবাসি।
জিজ্ঞাসাঃ সাহিত্যের সাথে আপনার পরিচয় কীভাবে?
ভাষ্যঃ ছোট থেকেই স্কুলের বাংলা বই এর গদ্য এবং পদ্য গুলি টানত। বাসায় প্রচুর বই ছিল, অবসরে পড়তাম। একটু বড় হয়েই উপন্যাসের দিকে ঝোঁক চলে আসে, এভাবেই সাহিত্যের সাথে আবদ্ধ হয়ে গিয়েছি।
জিজ্ঞাসাঃ সাহিত্যের মূল স্পন্দন, মানে ‘কবিতা’র সাথে আপনার যোগাযোগ কীভাবে শুরু? এবং সেটা কবে থেকে?
ভাষ্যঃ খুব ছোট বেলা থেকে স্কুলে আবৃত্তি করতাম, তখন থেকেই কবিতা পড়ি।
জিজ্ঞাসাঃ আপনাকে কেন কবিতা পড়তে হয়? সেইসাথে জানতে চাইব আপনি ‘কবিতা’ পড়েন নাকি আপনি নিজেকে পড়তে/চিনতে/জানতে ‘কবিতা’ একটা মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। যদি মাধ্যম হিসেবেই কাজ করে তাহলে সেটা কীভাবে?
ভাষ্যঃ কবিতা আমার জন্য আবেগের জায়গা। কবিতা আমি পড়ি আমার অনুভুতি গুলির বহিঃপ্রকাশ দেখতে। নিজে মনে মনে যা ভাবি সেই কথা গুলিই যখন কোন কবিতায় খুঁজে পাই তখন মনে হয় নিজেকে খুঁজে পেলাম। কবিতা আমার কাছে কখনো আবেগ কেন্দ্রিক, কখনো বা শব্দের আঁচড়, কখনো বেদনার্ত হৃদয়ের কান্না, কখনো অপার আনন্দ। শুধু রস আস্বাদন করতেই ভালোবাসি তাই।
জিজ্ঞাসাঃ কী ধরণের কবিতা আপনার পছন্দ?
ভাষ্যঃ সাধারনত রোমান্টিক কবিতাই পছন্দ করি। বিশেষ করে চিঠি আকারে লেখা কবিতা আমার খুব পছন্দ। এইগুলি আবৃত্তি করতে আনন্দ পাই বলেই হয়তো ভালোবাসি। তবে প্রকৃতি নিয়ে লেখা কবিতাও আমার ভীষন ভালো লাগে।
জিজ্ঞাসাঃ “দিন দিন মানুষ কবিতার উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে” –কথাটির সাথে কি আপনি একমত? যদি তাই হয় তাহলে এর পিছনে মূল কারন কী?
ভাষ্যঃ কিছুটা একমত, কিছুটা নই। এটা ঠিক যে আজকালকার জেনারেশন হিন্দি সংস্কৃতির আগ্রাসনে বাংলা সাহিত্য অনেকটাই ভুলতে বসেছে। তাছাড়া দিনে দিনে পড়াশোনার চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেভাবে সাহিত্য বা কবিতা চর্চার সময় তারা পাচ্ছে না। আর আমাদের বাবা মা ছেলে মেয়েদের সাহিত্য চর্চার দিকে আগ্রহী করে তুলতে সহায়তা করেন কম। সেই তুলনায় ছেলে মেয়েকে কিভাবে ভালো রেজাল্ট করা যায়, কম্পিটিশন করা যায় সেই শিক্ষাই দেন। শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি এ ক্ষেত্রে একটা বড় বাঁধা। তবে একই সাথে একটা নতুন জেনারেশন ও গড়ে উঠছে যারা কবিতা নিয়ে কাজ করছে, কবিতা পড়ছে, বোঝার চেষ্টা করছে, বিভিন্ন সংগঠন তৈরী করছে।
জিজ্ঞাসাঃ “কবিতা যারা পড়েন বা বুঝেন তারাও কবিতা লিখতে শুরু করেন, তারাও কবি হতে চান!” –কথাটি কতটুক সত্য মনে হয়? আপনার ক্ষেত্রেও কি এমনটা হয়েছে? এমনটা হওয়ার কারন কী?
ভাষ্যঃ আমি নিজে কখনো কবিতা লেখার সাহস করিনি। কবিতা যারা সত্যিই বোঝেন তাদের দ্বারা লেখা সম্ভব বলেই মনে করি। তবে যারা বোঝেন সবাইই যে লেখেন এমন নয়। এটা ভেতরের ব্যাপার, ভেতর থেকে কবিতা না আসলে লেখা যায় না।
জিজ্ঞাসাঃ বিভিন্ন কবিদের কবিতা পড়ে কি আপনার কখনো মনে হয় যে- এটা এই ভৌগলিক সীমারেখার, ওটা ঐ ভৌগলিক সীমানার? আর আপনি কিরকম ভাবেন মানে ‘কবিতা হবে সীমানা বিহীন (ইউনিভার্সাল)’ নাকি ‘কবিতা শুধু নির্দিষ্ট সীমানার কথা বলবে ?’
ভাষ্যঃ কবিতা মানুষের কথা বলে, মনের কথা বলে, অনুভুতির কথা বলে। তাই কবিতা কে কখনোই সীমানায় বাঁধা সম্ভব নয়।
জিজ্ঞাসাঃ পূর্ববর্তী কবিদের লেখনীর সাথে বর্তমান কবিদের লেখায় বিশেষ কোন পার্থক্য কি আপনার চোখে পড়ে? সেটা কেমন? কোনটাকে গ্রহন করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ হয়?
ভাষ্যঃ ভাষাগত একটা পার্থক্য তো আছেই। পূর্ববর্তী কবিদের লেখনীতে ভাষার ব্যাবহার আর বর্তমান কবিদের ভাষার ব্যবহারে বেশ পার্থক্য আছে। তুলনামূলক বর্তমানের কবিদের লেখাই আমার কাছে বোধগম্য বেশি। তবে ভাবগাম্ভীর্যের দিক থেকে পূর্ববর্তী কবিরাই এগিয়ে আছেন বলে মনে করি।
জিজ্ঞাসাঃ যাদের লেখা কবিতা আপনার ভালো লাগে, এই শেষে এসে যদি তাদের একটু স্মরণ
করতেন...
ভাষ্যঃ শুরুতেই কবিগুরুর নাম স্মরন করতে চাই। তার প্রায় সব কবিতাই আমার ভালো লাগে। এছাড়া জাতীয় কবির বিদ্রোহী এবং সাম্যের কবিতাগুলি অসাধারন। জীবন বাবুর প্রাকৃতিক কবিতা গুলি, মধুসুদন দত্তের সনেট গুলিও পছন্দ খুব। এসব ছাড়া সুনীল বাবু,জয় গোস্বামী, নির্মলেন্দু গুণ এবং রুদ্র মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ এর কবিতা ভালো লাগে। আবুল হাসান ও আমার অসম্ভব প্রিয় কবি।
❑সাক্ষাৎকার গ্রহন : সিপাহী রেজা
মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।