শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

রাওয়ান সায়েমা



চশমা

সুধীরবাবু! চশমাটা ফেলে যায় কেন?

সুধীরবাবুর তিলটা প্রায়সই চশমার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতো,
সুধীরবাবুর মতে সে ভালোবাসতে পারতো চিলেকোঠায় বাসা বাধা ঐ শালিক জুটির মত!
ঝুম বৃষ্টিতে অহ্মরের টিপ পড়াতো আমায়,
শব্দ দিয়ে দুল বানিয়ে কানে ঝুলাতো,
কবিতার নাড়ু বানাতো,
সুধীরবাবু ভালোই ছিলো।

নখের ডগায় স্বপ্ন নিয়ে খেলা করে আনমনে বলতো দেশটা ঢোল হয়ে গেল, বাজাও শালা!
নাক কুঁচকে হ্মণিক চেয়ে বলতো তুইও বড় হয়ে গেলি!

সুধীরবাবু, আমি বড় হয়ে গেছি,
ফেলে যাওয়া সিগারেটের মোথা সযত্নে রেখেছি।

বেলকুনির গাছগুলা উথাল পাতাল চন্দ্রাহত,
জল জল করে তৃষিত উটের জিহ্বার মত একহাটু ধুলা নিয়ে চেয়ে থাকে; সুধীরবাবু আর আসেনা।

আনমনে তরুণী বইগুলো ভাবতেই থাকে; সুধীরবাবু চশমাটা ফেলে যেত কেন?


কাট্-কাব্য

ভয়েস ওভারে নৈঃশব্দ থাকবে,
ওকে!
রেডি!
রোলিং..
একশন!

মির্চা,
সেদিন নৌকোতে ডুবে মরতে পারলে বোধহয় জীবনের

গভীরতম প্রাপ্তি পেতাম..

কাট্!
পুতুপুতুবাদ বাদ!
এগেইন গাইজ্,
জোন কোয়াইট!
রোলিং. .
একশন!

মির্চা,
একবার ডেকে দেখ,

তোমার দেহপল্লবে এক আকাশ
বাতাসে বক্ষবন্ধনী উড়িয়ে বিলীন হবো

নষ্টামীর সহ্যসীমা ছাড়িয়ে নষ্টমন্দিরের
উপাসিনী হবো...

কাট্! কাট্!
অশ্লীলতা!
কাট্!
গাইজ্ বি রিয়ালিষ্টিক!
কোয়াইট, রোলিং...
একশন!

মুরুব্বিরা,
ধর্মপালের সেতুর ওপারের বাসিন্দাদের
পিষ্ট করা হয়েছে,

আমরা,

হ্যাঁ এই আমরাই,তাদের
না-পাওয়াদের দলিত
দলে অর্ন্তভুক্ত করেছি

তাদের মেয়েদের অভুক্ত করে করে হিংস্র করেছি

পুরুষদেরকে করেছি রক্ত-মাংসের দাস

আর ক্ষমতাতান্ত্রিক ইঁদুরগুলোকে বাঘ বানিয়ে ধর্মের কল বসিয়েছি

কাট্! কাট্! কাট্!
হচ্ছে না , হবে না!
সেন্সরহীন!
ট্রাই এগেইন ,
ওকে রোলিং
একশন!

পাশ্বস্ত সড়কের ছুটন্ত যান গুলো গতির মাঝে গতিশীল কিন্তু সেই গতিতেও স্থির এক পূর্ণেন্দু ও চন্দ্রাহত বালিকা বধূর মৃত্যুলগ্ন,
আকাশটাও আজ রক্তিম সিথি ভরা সিঁদুর এর মত।
মেঘ আজ কাজলকালো যেন অপেক্ষা করছে কোন এক
বিষন্ন থেতলে যাওয়া নরম শরীর এর জন্য। আর
আমিও প্রতিক্ষা করছি সবুজ প্রকৃতির গাঢ় হলুদ
রুপের জন্য...

আজ আর পবনকেও মানবোনা!

কাট্! কাট্!
নো নিহিলিজম!
আহ্ ইউ অল গাইজ্ আর হলি শীট্!
প্যাক আ...প!


মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ, কার্তুজ'এর সঙ্গেই থাকুন।